প্রসেনজিৎ শীল ও পার্থসারথি রায়, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি: মুখ্যমন্ত্রী বারবার আশ্বাস দিলেও ফের উত্তরবঙ্গের দুই জেলায় এনআরসি–আতঙ্কের বলি তিনজন। মঙ্গলবার গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলেন কোচবিহার ১ নং ব্লকের ঘুঘুমারি গ্রামপঞ্চায়েতের হাওয়ার গাড়ি এলাকার বাসিন্দা আর্জিনা খাতুন (‌‌২৯)‌। জন্মসূত্রে তিনি গাঙালের কুঠি বসেরহাট গ্রামের বাসিন্দা। বছর দশেক আগে হাওয়ার গাড়ি এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার মিয়াঁর সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে। আর্জিনা খাতুনের ভোটের পরিচয়পত্র এবং আধার কার্ডে নামে অসঙ্গতি ছিল। এমনকী স্বামীর নামের ক্ষেত্রেও অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এই পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে তিনি আত্মঘাতী হন বলে জানিয়েছেন মৃতার আত্মীয় নাজির হোসেন, হাকিমউদ্দিন মিয়াঁরা। মঙ্গলবার স্বামী কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হতেই দুই সন্তানকে প্রতিবেশীর বাড়িতে রেখে নিজের ঘরেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন আর্জিনা। তৃণমূলের কোচবিহার জেলার কার্যনির্বাহী সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘‌এনআরসি নিয়ে বিজেপি নেতাদের বক্তব্যে এক ভয়াবহ আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।’‌
অন্যদিকে, এনআরসি–আতঙ্কে জলপাইগুড়ি ও ধূপগুড়িতে আত্মঘাতী হলেন আরও দু’‌জন। জলপাইগুড়ির বাহাদুর গ্রামপঞ্চায়েতের বাসিন্দা সাবির আলি (৩৪) নামে এক যুবক এদিন কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। একই কারণে ধূপগুড়িতে আত্মঘাতী হয়েছেন শ্যামল রায় (৩৬)। ফের দুটি মৃত্যুর ঘটনা জানতে পেরে মৃত সাবির আলি ও শ্যামল রায়ের বাড়িতে যান রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও গৌতম দেব। সাবির আলির জেঠামশাই লিয়াকত আলি বলেন, ‘‌নথিপত্র জোগাড় করতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছে সাবির।’‌ ধূপগুড়ির শ্যামল রায়ও একই কারণে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে তঁার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ। টোটোচালক শ্যামল রায়ের স্ত্রী ময়ান্তী রায় বলেন, ‘‌বেশ কিছুদিন ধরেই এনআরসি–আতঙ্কে ভুগছিলেন উনি। কাগজপত্র ঠিকঠাক না থাকলে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে শুনে ভেঙে পড়েছিলেন।’‌ ধূপগুড়ির গোবিন্দপল্লী এলাকার বর্মনপাড়ায় দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থাকতেন শ্যামল। সোমবার রাতে খাবার খাওয়ার পর হাঁটতে বের হন। অনেক রাতেও ফিরে না আসায় পরিবারের লোকেরা খুঁজতে বের হন। শেষে বাড়ির পেছনে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায় শ্যামল রায়কে। বুধবার এনআরসি–র বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে ধূপগুড়িতে। এই দু’‌টি পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এদিন তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বলেন, ‘‌এনআরসি–আতঙ্কে রাজ্যে একের পর এক মানুষের মৃত্যু ঘটছে। এখনও পর্যন্ত ৯ ‌জনের মৃত্যু ঘটেছে। এই মৃত্যুর জন্য বিজেপি–‌ই দায়ী। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস থাকতে কোনওভাবেই এনআরসি চালু হবে না।’‌ এনআরসি–আতঙ্কে আত্মঘাতী পরিবারের সদস্যদের সবরকম সাহায্যের আশ্বাসও দেন মন্ত্রী। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, ‘‌যে কোনওভাবে এই মৃত্যুমিছিল আটকাতে হবে। অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। আমরা মানুষকে বোঝাব।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top