অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা, ২৭ জানুয়ারি- এনআরসি আতঙ্ক গ্রাস করেছিল এক দিনমজুরের পরিবারকে। দীর্ঘদিন ধরে ঘুরে বেড়িয়েও আধার কার্ড করতে পারেননি। যার জেরে আতঙ্কে গলায় ফাঁস দিয়ে রবিবার আত্মঘাতী হলেন চাঁচল মহকুমার রতুয়া থানার বিনপাড়ার বাসিন্দা মিঠু সাহা (‌৪৬)‌। ওই দিন ছিল ভারতের ৭১তম সাধারণতন্ত্র দিবস। সেদিনই নিজের শোওয়ার ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী–‌সন্তানেরা। পাশাপাশি এই আত্মহত্যার ঘটনার জন্য মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন মৃত শ্রমিকের পরিবার। পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন মিঠু সাহা। টানাটানির সংসারে এনআরসি নিয়ে আতঙ্ক চেপে বসে। মৃতের স্ত্রী পঞ্চমী সাহা বলেন, ‘‌গ্রামে এনআরসি নিয়ে অনেকে আতঙ্কে রয়েছেন। আমাদের আধার কার্ড তৈরি হয়নি। রুজি, রোজগার ছেড়ে আধার কার্ড তৈরির জন্য প্রায়দিনই ভিড়ে ঠাসা লাইনে দাঁড়াতে হত স্বামীকে। কিন্তু আধার কার্ড তৈরি করতে পারেননি তিনি। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।’‌ এনআরসি আতঙ্কেই তঁার স্বামী আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন পঞ্চমীদেবী। তিনি জানান,‌ যেভাবে এনআরসি নিয়ে প্রচার চলছে। তাতে সকলেই আতঙ্কিত ছিলেন। ভয় পেতেন যে কোনও সময় আমাদের নাগরিকত্বের প্রমাণের অভাবে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। ভোটার কার্ড থাকলেও আধার কার্ড ছিল না। কার্ড না থাকলে সরকার আমাদের জেল বন্দি করে রাখতে পারেও বলে আতঙ্ক ছড়ায় পরিবারে। শেষমেশ সেই অবসাদেই স্বামী আত্মঘাতী হন বলে দাবি তঁার।
মৃতের এক ছেলে রবি সাহা বলেন, ‘‌বাবাকে অনেক বুঝিয়েছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, কাউকে দেশ ছাড়তে হবে না। এনআরসিও হবে না। কিন্তু অনেক বলেও বাবাকে বোঝাতে পারিনি। এখন আমরা কী করব, বুঝতে পারছি না। সব শেষ হয়ে গেল। এর জন্য বিজেপি সরকার দায়ী।’‌
তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি বাবলা সরকার বলেন,  এসব হচ্ছে শুধুমাত্র কেন্দ্রে থাকা বিজেপি সরকারের জন্য। ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ধিক্কার জানাচ্ছি।

জনপ্রিয়

Back To Top