অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার, ২২ নভেম্বর- সংসদে বিজেপি–র নেতা অমিত শাহর বিবৃতিতে তেতে উঠল আলিপুরদুয়ার জেলা। বিজেপি তথা কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে শুক্রবার অসমের উদ্দেশে মিছিলের ডাক দেয় অল ইন্ডিয়া নমশূদ্র বিকাশ পরিষদ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে আঁচ করে আগাম পদক্ষেপ করে কুমারগ্রাম থানার পুলিশ। অসম–বাংলা সীমান্তের বারোবিশাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বারোবিশা থেকে অসম সীমান্তের দিকে দুপুর দু‌টো নাগাদ মিছিল এগোতে থাকে। 
অসম–বাংলা সীমান্তের পাকড়িগুড়ি থেকে মাত্র ২ কিমি আগে মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাংলা পার করে অসমের দিকে মিছিল একবার প্রবেশ করলেই অসমের শ্রীরামপুরে অসম পুলিশের সঙ্গে তীব্র গন্ডগোলের আশঙ্কা ছিল মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের। তবে এদিন অসমে প্রবেশ করতে না পারলেও অল ইন্ডিয়া নমশূদ্র বিকাশ পরিষদের নেতারা পরিষ্কার হুমকি দিয়েছেন, এনআরসি ও সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল বাতিল করা না হলে তীব্র আন্দোলন শুরু করা হবে। প্রয়োজনে রেল, জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হবে। অসমের দিক থেকে কোনও যানবাহন বাংলাতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। 
তাৎপর্যপূর্ণভাবে এদিন নমশূদ্রদের পাশাপাশি প্রথমবার অল শেরপা অ্যাসোসিয়েশন আলিপুরদুয়ারে কেন্দ্রের এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়। নমশূদ্র বিকাশ পরিষদের সভাপতি মুকুলচন্দ্র বৈরাগ্য বলেন, ‘‌আমরা কোনও দিন বাংলাদেশ দেখিনি। তবে আমাদের শরণার্থী বানাবার চক্রান্ত চলছে। অসমে ১৭ লক্ষ বাঙালির নাম বাদ গেছে। তাদের প্রত্যেককে নাগরিকত্ব দিতে হবে। ২০১৮–র সেপ্টেম্বর মাসেও আমরা অসম অভিযান করেছিলাম। আমাদের দাবি অবিলম্বে ক্যাব, এনআরসি বাতিল করতে হবে। আমরা ১৯৫১–র পর ভারতে এসেছি। তবে আমরা জানতে পেরেছি ৬ বছর পর্যন্ত আমাদের অনাগরিক করে রাখা হবে।’‌ 
এদিকে, নমশূদ্র বিকাশ পরিষদের তরফে জানা গেছে, যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি প্রথম থেকেই এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে রয়েছেন তাই তঁারা বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পাশে আছেন। সংগঠনের তরফে পরিষ্কার বলা হয়েছে, বিজেপি নেতারা উত্তরবঙ্গে আসছেন আর মুখে হিন্দুদের হয়ে ভাল ভাল কথা বলছেন। কিন্তু আমরা কাগজ দেখে কথা বলছি। কেন্দ্র সরকার সংসদে একরকম জনবিরোধী বিল আনছে। আর বিজেপি নেতারা মুখে উল্টো কথা বলছেন। এসব ভাঁওতা মানুষ আর বিশ্বাস করবে না। মানুষের সঙ্গে বেইমানি করা হলে তার চরম ফল দিতে হবে বিজেপি–কে। মিছিলকারী নেতৃত্ব জানান, অসমে ঢুকলেই আমাদের গ্রেপ্তার করা হত। তবে আমরা দ্রুত অসম–বাংলা নিয়ে আন্দোলনে নামব। 
তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী, বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী, জেলা পরিষদের মেন্টর মোহন শর্মা এনআরসি ইস্যুতে এদিন তীব্র সমালোচনা করেন বিজেপি–র। শুধু কুমারগ্রাম ব্লকের মানুষদের নিয়ে মিছিল হয় এদিন। প্রচুর সংখ্যায় মানুষ ভিড় জমান মিছিলে। দিনভর এনিয়ে টানটান উত্তেজনা ছিল অসম–বাংলা সীমান্তের বারোবিশাতে।‌

মিছিল এগিয়ে যাচ্ছিল অসমের দিকে। আটকে গেল বারোবিশাতে। শুক্রবার। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top