অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা, ৩ ফেব্রুয়ারি- টোটো চালককে খুনের অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। মালদা শহরের অতুল মার্কেট সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ, রবিবার রাতেই মৃতদেহ মালদা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে পালিয়ে গিয়েছে ওই যুবকের স্ত্রী ও তার পরিবার। সোমবার সকালে পুরো ঘটনাটি নিয়ে অভিযুক্ত স্ত্রী–‌সহ সাতজনের বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। 
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতের নাম দীপক সাহা (২৫)। তিনি পেশায় টোটো চালক। গত সাত বছর আগে সিমেন্টি রোড এলাকার বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে বিয়ে হয় দীপকের। বিয়ের পর থেকে আলাদা বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন ওই দম্পতি। অভিযোগ, স্বামীর ওপর নানানভাবে নির্যাতন চালাচ্ছিল স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং তার পরিবারের লোকেরা। মেডিক্যাল কলেজে দীপকের মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর পাড়া–‌প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানতে পেরে সেখানে আসেন দীপকের পরিবারের লোকেরা। মৃতের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত দেখেই খুনের অভিযোগ তোলেন তাঁরা। মৃতের মা মিনা সাহা পুলিশকে অভিযোগে জানিয়েছেন, ‘‌দীর্ঘদিন আগে ছেলেকে নিয়ে আলাদা হয়ে গিয়েছিল তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সাহা। শ্বশুরবাড়ির সামনেই একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকত দীপক ও প্রিয়াঙ্কা। ছেলের ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। আমার ছেলে কোনওভাবেই আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে মারধর করে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।’‌ 
মৃতের দাদা কাজল সাহা বলেন, ‘‌ভাইকে ওরা পিটিয়ে খুন করেছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন দেখেই আমরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছি। সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’‌ ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই মৃত দীপক সাহার স্ত্রী–‌সহ পরিবারের লোকেরা গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের খোঁজ চালানো হচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বলা যাবে।

দীপক–‌প্রিয়াঙ্কা। সংগৃহীত

জনপ্রিয়

Back To Top