অর্ঘ্য দে, শিলিগুড়ি, ২৮ ডিসেম্বর- শিলিগুড়িতে মুকুল–দিলীপের একসঙ্গে সভা করা নিয়ে শুরু থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল। মুকুল রায়ের হাত ধরে শাসক দলের অনেক হেভিওয়েট, বুদ্ধিজীবী নাকি বিজেপি–তে যোগদান করবেন। কিন্তু শাসক দলের একজন বাদ দিয়ে তেমন কাউকেই দলে টানতে পারল না বিজেপি। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি বাঘাযতীন পার্কে বিজেপি–র জন জাগরণ যাত্রার সভা মঞ্চে মুকুল রায়ের হাত থেকে দলের পতাকা তুলে ধরলেন ডাবগ্রাম–ফুলবাড়ির তৃণমূল নেত্রী শিখা চ্যাটার্জি। বুধবারই তিনি তৃণমূল থেকে সরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে মুকুল রায় শহরে পা দেওয়া মাত্র তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন শিখাদেবী। এর পর সভামঞ্চে এসে বিজেপি–র পতাকা হাতে তুলে নেন। বিভিন্ন দল থেকে ৬০০–র কাছাকাছি নিচুতলার কর্মী বিজেপি–‌তে যোগ দেন। যদিও দিলীপ ঘোষের আশা, আগামী দিনে অনেকেই বিজেপি–‌তে আসবেন। বিজেপি–তে যোগ দেওয়ার পর শিলিগুড়িতে এটাই ছিল মুকুল রায়ের প্রথম সভা। কয়েকদিন ধরে শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। এদিন শুরু থেকেই ব্যক্তিগত আক্রমণেই থাকলেন মুকুল রায়। পাহাড় থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশ্ব বাংলা, জাগো বাংলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেক ব্যানার্জিকে আক্রমণ করেন তিনি। এদিন শুরুতেই পাহাড় প্রসঙ্গ টেনে তিনি জাতিগত বিভাজনের অভিযোগ তোলেন। বলেন, একদিন বিমল গুরুংরা মুখ্যমন্ত্রীর জন্য পাহাড়ের দরজা খুলে দিয়েছিলেন। আজ সেই বিমল গুরুং অপরাধী, আর বিনয় তামাং সৎ। যেখানে মদন তামাং হত্যাকাণ্ডে এই বিনয় তামাংয়েরও নাম রয়েছে। পাহাড়ে পুলিসকর্মী অমিতাভ মালিকের মৃত্যু নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি করেন তিনি। মুকুল রায় তাঁর ভাষণে জানিয়েছেন, তৃণমূল বলত বদলা নয়, বদল চাই। কিন্তু গত কয়েক বছরে বদল কম হয়েছে, প্রতিহিংসা কায়েম হয়েছে বেশি। বিশ্ব বাংলা, জাগো বাংলা নিয়ে মুকুলের চ্যালেঞ্জ, ‘মামলা হোক, আদালতে দাঁড়াতে রাজি।’ সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক জয় ব্যানার্জি, রথীন্দ্রনাথ বসু। শেষের দিকে সভায় যোগ দেন রূপা গাঙ্গুলিও।

শিখা চ্যাটার্জির হাতে পতাকা তুলে দিচ্ছেন দিলীপ ঘোষ। সঙ্গে মুকুল রায় ও জয় ব্যানার্জি। ছবি:‌ অর্ঘ্য দে

জনপ্রিয়

Back To Top