অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা, ৯ জুন- মালদা টাউন স্টেশন ঢোকার মুখে ফের শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনে মৃত্যু হল এক পরিযায়ী শ্রমিকের। এ নিয়ে মালদায় ট্রেনে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৩। মৃত শ্রমিকের দেহ মালদা মেডিক্যালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। 
মৃতের নাম খাতিব শেখ (২৭)। বাড়ি উত্তর মালদার পুকুরিয়া থানার চঁাদপুর গ্রামে। চার মাস আগে কেরলের কায়কলম এলাকায় রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন খাতিব এবং তাঁর এক তুতো ভাই মতিন শেখ। লকডাউনে দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিলেন। কেরলের কায়কলম জংশন থেকেই ৬ জুন শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনে রওনা হন তাঁরা। কিন্তু তিনদিনের ট্রেন যাত্রার পথেই মৃত্যু হয়েছে খাতিবের।
মতিন বলেন, ‘‌দাদার সঙ্গে আমিও ফিরছিলাম। ৬ জুন রাত ৮টায় আমরা ট্রেন ধরি। ৭ জুন সকাল থেকেই দাদার পেটে যন্ত্রণা শুরু হয়‌। ৪৮ ঘণ্টারও বেশি ছটফট করতে থাকেন। ঘনঘন শৌচাগারেও যান। বমি, পায়খানা হচ্ছিল। ট্রেন কোথাও থামেনি। যার ফলে চিকিৎসা মেলেনি। পরিস্রুত পানীয় জল খাওয়াতে পারিনি। সোমবার রাতে দাদা ধীরে ধীরে নিস্তেজ হতে থাকে। এরপর আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ মালদা টাউন স্টেশন ঢোকার মুহূর্তে দাদাকে ডাকলেও কোনও সাড়াশব্দ পাইনি।’‌
এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত খাতিব শেখের পরিবারে স্ত্রী লাকি বিবি এবং ছয় বছরের আনসুর শেখ এবং চার বছরের সাহিল শেখ রয়েছে। স্বামীর রোজগারে তঁাদের সংসার চলত। এখন তঁারা অসহায়। এই অবস্থায় সহযোগিতা চেয়ে সরকারের দ্বারস্থ হয়েছে মৃত শ্রমিকের পরিবার।
এ প্রসঙ্গে মালদা উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু জানিয়েছেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম নুর বলেন, ‘‌রেলের উদাসীনতার জন্য মালদায় এ নিয়ে পরপর তিনজন শ্রমিক প্রাণ হারালেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বহু কষ্টের মধ্যে ভিনরাজ্য থেকে তঁারা নিজেদের বাড়িতে ফিরছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজে উদ্যোগ নিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর ব্যবস্থা করেছেন। অথচ এ রকম অসহায় অবস্থার মধ্যে ট্রেন কোথাও থামানো হচ্ছে না। অসুস্থ যাত্রীদের কোনও রকম পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে না। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’‌

পরিযায়ী শ্রমিক খাতিব শেখের নিথর দেহ। মালদা টাউন স্টেশনে, মঙ্গলবার সকালে। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top