বিজয় দাস, আলিপুরদুয়ার, ২৯ জানুয়ারি- বনাঞ্চল–লাগোয়া বনবস্তি এবং গ্রামে মিশ্র মাছচাষে জোর দিয়েছে জেলা মৎস্য দপ্তর। এই এলাকায় মূলত আদিবাসীদের বসবাস। হাতি হামলা চালায়, ফসল নষ্ট করে। চাষ করলেও হাতির হামলায় অনেক সময় ফসল ঘরে তোলা যায় না। তাই তাঁদের স্বনির্ভর করতে এবার মাছচাষেই উৎসাহিত করা হচ্ছে। ছোট ছোট জলাশয়ে ছাড়া হবে মাগুর মাছ। সঙ্গে অন্যান্য নদীয়ালি মাছও ছাড়া হবে। ‘স্টেট ট্রাইবাল সাব প্ল্যান’ প্রকল্পের মাধ্যমে সাহায্য করা হবে মৎস্যজীবীদের। বিতরণ করা হচ্ছে মাছের খাদ্য, চারা পোনা–সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। মিশ্র মাছচাষে রুই, কাতলা, মৃগেল–সহ বিভিন্ন নদীয়ালি মাছচাষের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মিশ্র মাছচাষের জন্য উপভোক্তাদের ০.১ থেকে ০.৩ হেক্টর মাপের পুকুর বা জলাশয় থাকা জরুরি। অপর দিকে, ১২.৫০ ডেসিমেল মাপের পুকুর থাকা আবশ্যক দেশীয় মাগুর মাছচাষের জন্য। আলিপুরদুয়ার জেলা মৎস্য দপ্তরের সহ মৎস্য অধিকর্তা ড.‌ কিরণলাল দাস বলেন, জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় জঙ্গলঘেঁষা বনবস্তি ও গ্রামগুলোতে হামলা চালায় হাতির দল। হাতিরা ফসল খায়। কিন্তু মাছ খায় না। তাই ওইসব এলাকায় পুকুর, জলাশয়, মরা নদীখাদ এবং পাহাড়ি ঝোরা, নদীগুলোতে মাছচাষের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০১৭–১৮ আর্থিক বছরে মিশ্র মাছচাষের জন্য জেলার কুমারগ্রাম, ফালাকাটা, মাদারিহাট এবং আলিপুরদুয়ার ১ ও ২ নং ব্লকে ৭ জন করে মোট ৩৫ জন উপভোক্তাকে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। উপভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে খেপলা জাল, হাঁড়ি, পোনা মাছ রাখার হাফা। তাছাড়াও বিতরণ করা হয়েছে ১২০০ চারা পোনা, ৫০ কেজি চুন ও  ৩০ কেজি মাছের খাদ্য সুপার ফসফেট। অপর দিকে, দেশীয় মাগুর মাছ চাষের জন্য জেলার ৫টি ব্লকে ৮৪ জনের মধ্যে একইভাবে চারা পোনা–সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে।

বিতরণ করা হচ্ছে মাছচাষের সরঞ্জাম। ছবি: বিজয় দাস

জনপ্রিয়

Back To Top