অর্ঘ্য দে, শিলিগুড়ি, ১৩ জুন

 

করোনার ভয়ে ‘‌জুম–অ্যাপ’‌–এর সাহায্য নিয়ে আম উৎসবের আয়োজন করেছে অ্যাসোসিয়েশন অফ কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজম (অ্যাক্ট) সংস্থা। গত কয়েক বছরে শিলিগুড়ির একটি শপিং মলে এই আম উৎসবের আয়োজন করা হত। যা কয়েক বছরেই বেশ বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। দুশোর বেশি ভারতীয় প্রজাতির আম জড়ো করা হত এখানে। তার মধ্যে বাংলারই থাকত শতাধিক প্রজাতি। করোনা ভাইরাস সেই উৎসাহে জল ঢেলে দিলেও একেবারে দমাতে পারেনি। অ্যাপের সাহায্যে কেউ মালদার আম বাগানে বসে নিজের বাগানের ফলের বর্ণনা দিচ্ছেন, কেউ বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমের গুণকীর্তন করছেন। 
অ্যাক্টের আহ্বায়ক রাজ বসু বলেন, ‘করোনার জন্য এবার জমায়েত না করে আমরা অনলাইনে আম উৎসব পালন করছি। আম উৎসবকে কেন্দ্র করে যা যা অনুষ্ঠান আমরা করতাম, তার সবগুলি কভার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু চোখের সামনে থাকছে না আম। পাকা আম না থাকলে আম উৎসব যে জমে না, সেটা আমরাও বুঝি। তবে কেউ চাইলে ফোনের মাধ্যমে আম কিনতে পারেন। এর জন্য চাষিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও আমরা করিয়ে দেব।’‌ চাষিদের মোবাইল নম্বর দেওয়া হচ্ছে। যারা আম খেতে ইচ্ছুক, ফোন করলে চাষিরাই আম প্যাকেজিং করে তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠিয়ে দেবেন। অনলাইনে এই উৎসব চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত।
চলতি বছরে করোনা ভাইরাস এবং লকডাউনের জেরে রাজ্যে আমের বাজার অনেকটাই নিচের দিকে বলে জানিয়েছেন আম চাষিরা। বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা বন্ধ থাকায় মালদার আম চাষিরা যেখানে অন্যান্য মরশুমে হাজার কোটি টাকা লাভ করে এ বছর লাভের পরিমান অর্ধেকে এসে দাড়িয়েছে। এমনকি রাজ্যের মালদা, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়ার আমের পাশাপাশি মহারাষ্ট্র, ওডিশা–সহ অন্যান্য রাজ্য থেকেও আম আসত। এ বছর সেভাবে আম রাজ্যে আসেনি। রাজ বসু বলেন, ‘‌আমাদের লক্ষ্য হল আমাদের রাজ্যের আমের কদর গোটা দেশে ছড়িয়ে দিতে। পাশাপাশি বিশ্বের দরবারেও যাতে আমাদের রাজ্যের আমের স্বাদ পৌঁছয়, তার ব্যবস্থা করা।’‌ এদিন উত্তরবঙ্গের বণিক মহল সিআইআই (‌কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডিস্ট্রিস)‌–এর সঙ্গে এ বিষয়ে জুম অ্যাপের মাধ্যমে আলোচনা পর্বেরও আয়োজন করা হয়েছিল।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top