‌সব্যসাচী ভট্টাচার্য, দার্জিলিং: বুধবার সিএএ–এনআরসি–এনপিআর বিরোধী মহামিছিল হবে পাহাড়ে। নেতৃত্বে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। গোটা পাহাড় জুড়ে মিছিলের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। ঐতিহাসিক মিছিল হবে বলে নিশ্চিত পাহাড়ের বিভিন্ন মহল। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিনয় শিবির ও তৃণমূলের কর্মী–‌সমর্থকরা তো মিছিলে থাকবেনই, এছাড়াও বিভিন্ন জনজাতি বোর্ড, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ধর্মীয় সংগঠনেরও মিছিলে যোগ দেওয়ার কথা। 
সোমবার সন্ধে নাগাদ পাহাড়ে পৌঁছে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৩ জানুয়ারি দার্জিলিং ম্যালে নেতাজি জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন তিনি। ইতিমধ্যেই তাঁর এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে সেজে উঠেছে পাহাড়। দার্জিলিং চৌরাস্তা থেকে শুরু করে শহরের সর্বত্র ব্যানার–‌ফেস্টুনে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। পাহাড়ে রয়েছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিনয় তামাং শিবির ও তৃণমূল যৌথভাবে মিছিলের আয়োজন করছে। মঙ্গলবার দার্জিলিং প্রেস গিল্ডে বসে বিনয় তামাং বলেন, ‘‌ঐতিহাসিক মিছিল হবে, পাহাড়ের মোট ৯২১ বুথ থেকে কর্মী–‌সমর্থকরা যোগ তো দেবেনই, বহু অরাজনৈতিক সাধারণ মানুষও মিছিলে হঁাটবেন। অন্তত ১৫ হাজার মানুষ মিছিলে হঁাটবেন।’‌ ঠিক হয়েছে, ভানু ভবন থেকে মিছিল শুরু হয়ে কাকঝোরা পর্যন্ত এসে ফের ঘুরে চকবাজারে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে জমায়েতে বলবেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে খানিকটা জনসংযোগ সেরে নেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও পূর্বঘোষিত সূচি ছাড়াই পাহাড়ে চলতে থাকা পাল্‌স পোলিও কর্মসূচির ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ নিলেন। দার্জিলিং নেহরু রোডে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলার সময়ই দার্জিলিং জেলা হাসপাতালের দুই নার্সের আবেদনে এক পথশিশুকে পাল্‌স পোলিওর ড্রপ খাওয়ান মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে টেলিফোনে কথা বলে নেন জেলার স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন দার্জিলিং পুরসভার মেডিক্যাল অফিসার নৌশাদ সিদ্দিকি। তঁাকে সঙ্গে নিয়েই দার্জিলিং বুচার বস্তির বাসিন্দা সাহিল খান নামে ওই শিশুকে পোলিও খাওয়ান মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, সঙ্গের তিন শিশুকে লাগোয়া দোকান থেকে সোয়েটারও কিনে দেন। দার্জিলিঙের পথচলতি মানুষ তখন অবাক। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের এমন সংবেদনশীল ভূমিকায় আপ্লুত স্থানীয় বাসিন্দারাও। 
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১১ সালে তিনি এই কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তখন শিশুদের পোলিও খাইয়েছিলেন। ফের এদিন আবার পোলিও খাওয়ালেন। দার্জিলিং হাসপাতালের দুই নার্স লক্ষ্মী শর্মা, বিনীতা সুব্বা জানান, পোলিও ‌‌সপ্তাহ চলছে। যে শিশুদের পোলিও ড্রপ দেওয়া হয়নি, তাদের খুঁজে বের করে পোলিও ড্রপ খাওয়ানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী যদি পোলিও ড্রপ খাওয়ান, তাহলে মানুষের মধ্যে খুবই ইতিবাচক বার্তা যাবে। এটা ভেবেই মুখ্যমন্ত্রীকে পোলিও ড্রপ খাওয়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তা অভাবনীয় বলেও জানিয়েছেন কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা। 
এদিন পথচলতি মানুষের সঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে কথা বলেছেন, এগিয়ে গিয়ে কুশল বিনিময় করেছেন, ভালমন্দের খোঁজ নিয়েছেন, তাতেও খুশি পাহাড়ের আমজনতা। অনেকেই জানিয়েছেন, ‘‌একজন মুখ্যমন্ত্রী এত সহজভাবে মিশতে পারেন, এভাবে কাছের মানুষ হয়ে উঠতে পারেন, ভাবা যায় না।’‌ এদিন মুখ্যমন্ত্রী কথা বলেন নেহরু রোডের ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও। জানতে চান কেমন চলছে ব্যবসা?‌ কোথাও কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা?‌ সকলকে আশ্বস্ত করে নির্ভয়ে নিজের কথা বলতে বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর পরিকল্পনাতেই জিটিএ–র উদ্যোগে সেজে উঠেছে দার্জিলিং ম্যাল। গোটা ম্যাল চত্বর জুড়ে টাইলস বসেছে, নতুন চেয়ার বসানো হয়েছে। নতুন আলোয় সেজে উঠেছে ম্যাল। চেনা ম্যালকেও যেন অচেনা মনে হচ্ছে। চলার পথে সে সব ঘুরেও দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। 

জনপ্রিয়

Back To Top