অলক সরকার,শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের ৩ জেলায় কাজের হিসাব নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বুধবার উত্তরকন্যায় কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলপুরদুয়ার— এই ৩ জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ছিলেন বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী এবং সচিবরা। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পগুলির কাজ কীভাবে এগোচ্ছে, কোন প্রকল্পগুলি এখনও শেষ হয়নি, কোথায় সমস্যা রয়েছে জানতে চান তিনি। প্রকল্প ধরে ধরে কাজের হিসাব নেন। যে সব কাজ এখনও অসম্পূর্ণ, তার কারণ জানতে চান। কাজ শেষ করার সময়সীমাও বেঁধে দেন। 
মুখ্যমন্ত্রী পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই বকেয়া কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। চা–বাগান অধিগ্রহণ ইস্যুতে কেন্দ্রীয়  সরকারকে তোপ দাগেন।
এদিনের বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের পূর্ত, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব, বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন, আদিবাসী উন্নয়নমন্ত্রী জেমস কুজুর, সাংসদ পার্থসারথি রায়। ছিলেন ৩ জেলার সব বিধায়ক। মুখ্য সচিব মলয় দে, স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্য, ডিজি সুরজিৎ করপুরকায়স্থ প্রমুখ। এছাড়াও ছিলেন জিটিএ–র প্রশাসক বিনয় তামাং, অনীত থাপা।‌‌
যে ৩ জেলা নিয়ে এদিন শিলিগুড়ির কাছে উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক হল, সেই জেলার একটা বড় অংশ জুড়ে চা–‌বাগান। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ২৩টি চা–‌বাগানে জল প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছেন। এরপর রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায় আরও কিছু চা–‌বাগানের তালিকা দিতেই মুখ্যমন্ত্রী অধিগ্রহণ প্রসঙ্গ তোলেন। বলেন, ‘কেন্দ্রের মন্ত্রী এসে উত্তরবঙ্গের ৭টি চা–‌বাগান অধিগ্রহণ করার কথা বলে গিয়ে ধোঁকা দিয়েছেন। কিন্তু আমরা ধোঁকা দিই না। যেটা বলব সেটা করব। এমনি এমনি কোনও কথা বলব না। ২৫০–৩০০ চা–‌বাগান আছে। ধীরে ধীরে হবে।’  পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে যাতে তিন জেলার পঞ্চায়েত এলাকার রাস্তার সমস্ত কাজ শেষ হয়ে যায়, সে–ব্যাপারেও আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন এদিন। বৈঠকে বসে ব্লক ধরে ধরে কাজের হিসাব নেন মুখ্যমন্ত্রী। ১০০ দিনের কাজের হিসাব নিতে গিয়ে দেখতে পান, বেশিরভাগ ব্লকে ২০ দিন থেকে ৩০ দিন কাজ হয়েছে মাত্র। মুখ্যমন্ত্রী অসন্তুষ্ট হন। নির্দেশ দেন, ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে ৫০ দিন পার করতে। একইভাবে ‘‌কন্যাশ্রী’‌ প্রকল্পের কাজ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌কন্যাশ্রী রাজ্যের গর্ব। এই কাজ ফেলে রাখলে হবে না। দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে।’‌ স্কিল ডেভেলমেন্টের কাজ নিয়েও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এখানেও টার্গেট শেষ করতে বলা হয়েছে। ৪ ডিসেম্বর কলকাতায় প্রশাসনিক বৈঠক আছে। সেখানে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে। 
জলপাইগুড়িতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর মতামত চাইলে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ‘‌কোনও উচ্ছেদ করা চলবে না। উচ্ছেদ আমাদের নীতি নয়। প্রয়োজনে সবার সঙ্গে বসে একটা সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।’‌ মুখ্যমন্ত্রী পুলিসকে আরও সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেন। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানে দাঙ্গা বাধানোর ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে পুলিসকে নজরদারি বাড়িয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গেও নাম না করে বিজেপি–র ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পঞ্চায়েত ও পুরসভাকে সারা বছর পরিচ্ছন্নতার কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top