অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা: ভোটে ভাঙনের ছবি স্পষ্ট গনি খানের কোতোয়ালিতে। এতদিন ভোটের সময় মামা, ভাই, ভাগনি একসঙ্গেই ভোট দিতে বেরোতেন। একসঙ্গে তিনজনই গনি খানের মাজারে ফুল ছড়িয়ে আসতেন ভোটকেন্দ্রে। সেই চেনা ছবি এবার বদলে গেল। মঙ্গলবার সকাল সাতটা নাগাদ এলেন পিতা–‌পুত্র। অর্থাৎ, আবু হাসেম খানচৌধুরি (‌ডালু)‌ এবং ছেলে ইশা খানচৌধুরি। একজন মালদা দক্ষিণের, অন্যজন মালদা উত্তরের প্রার্থী। দুজনেই ভোট দিলেন কোতোয়ালি জুনিয়র বেসিক বিদ্যালয়ের ৬০ নম্বর বুথে। এরপর আলাদাভাবে ভোট দিতে যান মৌসম নুর। তিনিও একই বুথের ভোটার। ভোট দিতে আসার আগে তিনিও গনি খানের মাজারে ফুল ছড়িয়ে এলেন। 
এতদিন একসঙ্গে তিনজনই ভোট দিতে আসতেন। কিন্তু এবার মৌসম তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় ছবিটাই বদলে গেছে। যে বুথে ভোট, সেটি মালদা দক্ষিণের অধীনে। অর্থাৎ, মৌসম বা ইশার সামনে নিজেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না। মালদা উত্তরে মৌসম আর ইশা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। দাদা–‌বোনকে একসঙ্গে ভোট দিতে যেমন দেখা গেল না, তেমনি ভোটের পরেও সম্প্রীতির ছবিতে চিড় দেখা দিল। সকালেই মৌসম অভিযোগ করলেন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে, আবার ইশা অভিযোগ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ইশা বলেন, ‘‌সকাল সকাল ভোট দিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম। অনেক বুথে কংগ্রেস এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে রতুয়া এলাকায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমাদের লোকদের ভয় দেখিয়েছে।’‌ একই অভিযোগ করেন মালদা দক্ষিণের কংগ্রেস প্রার্থী ডালুবাবুও। বলেন, ‘‌কালিয়াচক, সুজাপুর এলাকায় বেশ কিছু বুথে আমাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেয়নি। বহু জায়গায় ছাপ্পা ভোট হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে।’‌
মালদা উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী মৌসম নুর বলেন, ‘রতুয়ায় কংগ্রেসের লোকেরা তৃণমূল কর্মীদের ভয় দেখিয়েছে। রতুয়ায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। তারপরও মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন।’‌ ভোট দিয়ে সকাল সাড়ে নটা নাগাদ মৌসম বেরিয়ে পড়েন তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রে। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে হালকা মেজাজে দুই সন্তানকে আদর করতে দেখা যায় তাঁকে। গাজোল ব্লকের পান্ডুয়ায় মায়ের মাজারে গিয়েও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মৌসম। গনি খানের পরিবার থেকে অনেক আগেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন গনির আরেক ভাই আবু নাসের খান চৌধুরি (‌লেবু)‌। সম্প্রতি তৃণমূলে গেছেন মৌসম। তাই বর্তমানে কোতোয়ালি আড়াআড়িভাবে কংগ্রেস–‌‌তৃণমূলে বিভক্ত। একইভাবে বিভক্ত কোতোয়ালির অনুগামীরাও। এবার ভোটে জনগণের আশীর্বাদ কার পক্ষে থাকে, সেটাই এখন দেখার।

জনপ্রিয়

Back To Top