দলবিরোধী কাজ ও শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ নেতাদের ঝেড়ে ফেলার উদ্যোগ মালদা তৃণমূলের

বিভাস ভট্টাচার্য 
ভোট পরবর্তী মালদায় শুরু হল রাজনৈতিক ঝাড়াই বাছাইয়ের কাজ। দলবিরোধী কাজের জন্য এবার পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলেছে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। এঁদের মধ্যে দু'জন শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ। অভিযুক্ত এই পাঁচ নেতার মধ্যে কালিয়াচক ব্লক (২) পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি টিঙ্কু রহমান বিশ্বাস ছাড়া আছেন জেলা পরিষদ সদস্য চম্পা মন্ডল ও তাঁর স্বামী দ্বিজেন মন্ডল, গঙ্গাপ্রসাদ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আমিনুল ইসলাম এবং হামিদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জুলেখা বিবি। এই পাঁচজনের মধ্যে দ্বিজেন এবং তাঁর স্ত্রী প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে জেলা তৃণমূলের একটি সূত্র জানিয়েছে। 
নির্বাচনের পর কালিয়াচক ব্লক (২) তে যে রিভিউ মিটিং হয় সেখানেই এই পাঁচজনের ‌বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ এনে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলার এক তৃণমূল নেতা বলেন,  ‘‌এঁদেরকে বহিস্কারের পথে হাঁটছে তৃণমূল।’‌ মোথাবাড়ির তৃণমূল বিধায়ক ও জেলা তৃণমূলের কো–অর্ডিনেটর এবং রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘‌ভোটের সময় এঁরা তলায় তলায় তৃণমূলের বিরোধিতা করে বিজেপি ও কংগ্রেস যাতে ভোট পায় তার জন্য কাজ করেছেন। এঁদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’‌ 
যদিও বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেছে মালদা তৃণমূলের চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর মুখে। তাঁর কথায়, ‘‌এঁদের মধ্যে টিঙ্কু দলের অনেক পুরনো কর্মী। এই জেলার অনেকেই একটা সময় শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন বা ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যদি কাউকে দল থেকে বহিস্কার করতে হয় তবে তাঁর কিন্তু একটা নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে তারপর রাজ্য কমিটির কাছে সেটা পাঠাতে হয়। সেই কমিটির অনুমোদন ছাড়া কিন্তু কাউকে দল থেকে বহিস্কার করা যায় না।’‌