পঙ্কজ সরকার, মালদা, ১৩ জানুয়ারি- পিকনিকে তো অনেকেই গিয়ে থাকেন। পিকনিকের পর যত্রতত্র ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পড়ে থাকে প্লাস্টিক থেকে থার্মোকলের সামগ্রী। ফি–বছর এই নিয়ে জেলা প্রশাসন প্রচার চালালেও সচেতনতার স্তর এখনও সেই তিমিরেই। এবার জেলা প্রশাসনের পাশে দাঁড়ালেন শহরের কিছু যুবক। প্লাস্টিক, থার্মোকলের বিরুদ্ধে যেমন তাঁদের প্রচার, তেমনি কুমোরদের বাঁচিয়ে রাখারও উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা। পরিবেশ–বান্ধব সামগ্রী দিয়ে পিকনিক করে সমাজকে বার্তা দিতে চেয়েছেন এই যুবকেরা। পিকনিকের রান্নার সামগ্রী হাঁড়ি, কড়াই, গ্লাস— সবই মাটির তৈরি। এমনকী খুন্তিও কাঠের তৈরি। খাওয়া‌দাওয়া কলাপাতায়। কলাপাতা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এক যুবক পার্থপ্রতিম কুণ্ডু বলেন, ‘‌আমরা দেখেছি থার্মোকল, প্লাস্টিকের থালা ব্যবহার করতে। এখানে অনেক তেমন থালা ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে। সেখানে এই কলাপাতা মাটিতে মিশে সারে পরিণত হবে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে।’‌ 
সোমবার ওই যুবকরা পুরাতন মালদার বেহুলা নদীর পাড়ে পিকনিকের আসর বসান। তাঁদের এহেন অভিনব উদ্যোগ দেখে উৎসাহীরা অনেকেই ভিড় জমান। প্রকৃতি–সহায়ক সামগ্রী দিয়ে পিকনিকের রান্নাবান্না সারেন ওই যুবকরা। পিকনিক দলের সদস্য চন্দন দাস জানান, ‘‌আমরা যে সব সামগ্রী ব্যবহার করেছি, সেখানে কোনও প্লাস্টিকের ব্যবহার নেই। প্লাস্টিকের বিকল্প বলা যেতে পারে এই মাটির সামগ্রী। দামও তুলনামূলক কমই। আমরা চাই, আমাদের মতো অন্যরাও এগিয়ে আসুন।’‌ আরেক যুবক শঙ্কর দাস বলেন, ‘‌জেলা প্রশাসন থেকে উদ্যোগ নিয়েও কোনও কাজ হচ্ছে না দেখে আমরা নিজেরাই একটু অন্যভাবে বার্তা দিতে চেয়েছি। তাছাড়া মাটির সামগ্রীতে রান্নার স্বাদও আলাদা।’‌ যুবকদের এহেন প্রচারের ভূয়সী প্রশংসা করেন ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নীহার ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‌খুব ভাল উদ্যোগ যুবকদের। এভাবে অন্যরা এগিয়ে এলে, এরপর আর পিকনিকে কেউ প্লাস্টিক কিংবা থার্মোকল ব্যবহারই করবে না।’‌

সামনে মাটির হঁাড়ি। কলাপাতায় চলছে খাওয়াদাওয়া। ছবি:‌ প্রতিবেদক
 

জনপ্রিয়

Back To Top