অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা: উদ্বোধনই হল না। অথচ তার আগেই খসে পড়তে শুরু করল জাতীয় সড়কের নির্মীয়মাণ সেতুর চাঙড়। নতুন ওই সেতুর বিভিন্ন জায়গায় লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। যা নিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে মালদার মানুষের। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতুর নীচ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে অসংখ্য মানুষকে। 
স্থানীয়দের অভিযোগ,  এই সেতু তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। যে ঠিকাদারি সংস্থা এই সেতু তৈরির কাজ করেছে, তারা অনিয়ম করেছে। ভারী যানবাহন চলাচল করলেই কেঁপে উঠছে সেতুটি। নির্মীয়মাণ সেতুর নীচের অংশ থেকে ঝুরঝুর করে চাঙড় খসে পড়ছে। যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাঁদের প্রশ্ন, ‘‌কী এমন কাজ হল যে, দু’‌ বছরের মাথায় সেতু জরাজীর্ণ হয়ে গেল?‌ এর পেছনে বড়সড় দুর্নীতি রয়েছে।’‌ 
উল্লেখ্য, ইংরেজবাজার থানার সাদুল্লাপুর মোড় থেকে পুরাতন মালদা থানার নলডুবি এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের বাইপাস রোড তৈরি হয়েছে। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের যানজট এবং দুর্ঘটনা কমাতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ নতুন বাইপাস রোড তৈরি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ২০১৪ সাল থেকে কাজ শুরু হয়ে যায়। মালদা শহরের রামনগর কাছারি এলাকায় মহানন্দা নদীর ওপর বাইপাস সড়কের তৃতীয় সেতুটি গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু চালু হওয়ার আগেই তার বেহাল দশা। ইংরেজবাজারের বিধায়ক ও পুরপ্রধান নীহার ঘোষ বলেন, ভাবতেই অবাক লাগছে নতুন সেতু এর মধ্যেই এমন জরাজীর্ণ হয়ে গেল!‌ সিমেন্ট, বালির চাঙড় খসে পড়ছে। লোহার রড জরাজীর্ণ অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ কী কাজ করলেন যে, একটা নতুন সেতুর অবস্থা কয়েক বছরের মধ্যে এমন হয়ে গেল। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে বলব দ্রুত সেতু সংস্কারের জন্য যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুণ্ডু বলেন, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এই বাইপাস সড়কের অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। এখন বোঝাই যাচ্ছে, সড়ক ও সেতু তৈরির কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। নিম্নমানের এই কাজ নিয়ে আমরা আন্দোলন করব এবং ডেপুটেশন দেব। যদিও পুরো ঘটনাটি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন এনএইচআইএ–‌র মালদার কর্তৃপক্ষ। তাঁরা এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেননি।‌ ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top