পঙ্কজ সরকার, মালদা, ২৮ ডিসেম্বর- মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে ভিড় জমান চিকিৎসার জন্য। চিকিৎসার জন্য বেশ কিছুদিন কাটাতে হয় রোগীর আত্মীয়দের। যত দিন না রোগী সুস্থ হয়ে উঠছে, মেডিক্যাল কলেজ চত্বরেই থাকতে হয় তাঁদের। আত্মীয়রা ওয়ার্ডে তো আর রাত কাটাতে পারেন না। অগত্যা থাকতে হয় অতিথি নিবাস কিংবা কোনও মাথা গোঁজার মতো কোনও আস্তানায়। কেউ কেউ আবার হাসপাতাল চত্বরেই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান। সমস্যাটা হয় সকালে। দাঁত মাজবেন কীসে?‌ গ্রামের মানুষের নিমগাছের ডালে দাঁত মাজার অভ্যেস। এইসব মানুষের দূত হিসেবে একদিন হাজির সুখলাল বিশ্বাস। টুকরো টুকরো নিমের ডাল বিক্রি করা শুরু করলেন। বছর পাঁচেক ধরে তিনি শুধু নেশার টানে এসে বসেন মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে। বছর ৭২–এর সুখলাল বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তবু ওই মানুষদের কথা ভেবে একদিনও কামাই করেন না। টুথ ব্রাশের বাজারে নিমের দাঁতন বিক্রি করে উপার্জনও করছেন তিনি। 
পাঁচ বছর ধরে মালদা মেডিক্যাল চত্বরে নিমের দাঁতন বিক্রি করে চলেছেন সুখলাল। বাড়ি মালদা শহরের কৃষ্ণপল্লী নেতাজি কলোনি এলাকায়। প্রতিদিন ভোরে নিমের দাঁতন নিয়ে মালদা মেডিক্যালের সামনে হাজির হন সুখলালবাবু। যদিও স্থায়ী দোকান নেই তাঁর। খোলা আকাশের নিচে বসেই দাঁতন বিক্রি করেন ওই প্রৌঢ়। স্বরচিত ছড়া শুনিয়ে গ্রাহকদের আকর্ষণ করেন। ৫ টাকায় তিনটি দাঁতন। বাড়িতে স্ত্রী ও ছেলে রয়েছে। কিন্তু নেশার টানে বয়সকে পেছনে ফেলে আজও দাঁতন বিক্রি করেন তিনি। বাড়ির কারও নিষেধ শোনেন না তিনি। এই নিয়ে স্ত্রী–‌ছেলের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই রাগারাগি হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিমগাছের পাতলা ডাল সংগ্রহ করে সেটিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দাঁতন তৈরি করেন তিনি নিজেই। 
সুখলাল জানান, দিনে ২০০ টাকার বেশি বিক্রি হয়। যা উপার্জন হয় তা সংসারের কাজে লেগে যায়। আমি না এলে যে রোগীর আত্মীয়রা সমস্যায় পড়বেন। ওঁদের কথা ভেবে বাড়িতে বসে থাকতে পারি না। হাসপাতাল চত্বরে নিমের দাঁতন পেয়ে খুশি খদ্দেররাও।‌‌

প্রবল শীতকে উপেক্ষা করে নিমের দাঁতন বিক্রি করতে হাজির সুখলাল বিশ্বাস। ছবি:‌ পঙ্কজ সরকার‌

জনপ্রিয়

Back To Top