পঙ্কজ সরকার, মালদা, ৫ আগস্ট

করোনা–‌র জেরে সঙ্কটের মধ্যে জেলার হোটেল, রেস্তোরাঁগুলি। মাথায় হাত পড়েছে মালিকদের। কী করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন তাঁরা। ইদানীং হোটেল, রেস্টুরেন্টগুলি খোলা থাকলেও মানুষের দেখা নেই। এই অবস্থায় ধুঁকছে হোটেলগুলি। তার মধ্যে হোটেলকর্মীদের বেতন দিতে হচ্ছে। মালিকদের বক্তব্য, হোটেল শিল্প যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অন্য কোনও ব্যবসায় কিংবা শিল্পে তা ঘটেনি। ইতিমধ্যে ট্যাক্স মকুব নিয়ে ইংরেজবাজার পুরসভার প্রশাসক নীহার ঘোষের কাছে দরবার করেছেন মালিকপক্ষ। পুরো দাবি না মানলেও কিছুটা মেনে নিয়েছেন তিনি। বিদ্যুতের বিল নিয়ে কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছেন রাজ্য সরকারের কাছে। কিন্তু যে সব হোটেল বা রেস্টুরেন্টে ঋণ রয়েছে, তা মকুবের এখনও কোনও আশ্বাস বাণী শোনা যায়নি বলে জানিয়েছেন মালিকপক্ষ। 
জানা গেছে, জেলার মধ্যে ইংরেজবাজার, গাজোল, চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুরে হোটেল ও রেস্টুরেন্টের সংখ্যাটা প্রায় ৯৬। তার মধ্যে ইংরেজবাজার শহরেই সংখ্যাটা প্রায় ৭৬। জেলায় ইংরেজবাজার ও পুরাতন মালদায় মায়াবন ও গোল্ডেন পার্ক নামে দুটি রিসর্টও রয়েছে। প্রায় ৫ হাজার কর্মী এই হোটেল শিল্পের সঙ্গে জড়িত। লকডাউনের ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছে হোটেল শিল্প। জানা গেছে, জেলায় গড়ে মাসে প্রায় ৭–‌৮ কোটি টাকার ব্যবসা হয়ে থাকে। সেখানে এখন কয়েক হাজার টাকা মাত্র। মায়াবন রিসর্টের মালিক অসীম ভগৎ বলেন, ‘‌আমাদের মতো অন্য কোনও ব্যবসায় এত ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি কাউকে। এই অবস্থায় পকেট থেকে খরচ করে হোটেল, রিসর্টগুলি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে হচ্ছে। এত ক্ষতি কী করে পূরণ হবে, কিছুই বুঝতে পারছি না।’‌ মালদা ডিস্ট্রিক্ট হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ওয়ার্কারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন–‌এর সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু চৌধুরি বলেন, ‘‌আমাদের ট্যাক্স মকুবের দাবি জানিয়ে ইংরেজবাজার পুরসভার প্রশাসক নীহার ঘোষকে অনুরোধ করেছিলাম। আমরা ৫০ শতাংশ মকুবের কথা জানিয়েছিলাম। উনি ১০ শতাংশ মকুবের কথা বলেছেন। আমরা আমাদের কথা পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের কাছে জানিয়েছি। ইতিমধ্যে আমরা বিদ্যুতের বিল নিয়ে আশ্বস্ত হয়েছি।’

পর্যটকের অভাবে জনশূন্য মালদা শহরের একটি রিসর্ট। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top