আজকালের প্রতিবেদন, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি, ৩ ফেব্রুয়ারি- এলআইসি–‌র শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব অভিসন্ধিমূলক বলে তোপ দাগলেন কর্মচারীরা। তঁাদের মতে, গোটা দেশে এলআইসি–‌র ৪২কোটি পলিসি হোল্ডার রয়েছেন, তাঁদের মতামত না নিয়ে এলআইসি–‌র ১ টাকার শেয়ারও বিক্রি করার অধিকার নেই কেন্দ্রীয় সরকারের। এলআইসিকে বেসরকারীকরণ ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার এটি একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ বলে মনে করেন তাঁরা। এই নীতির তীব্র বিরোধিতার পাশাপাশি এই প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে এলআইসি–‌র সব অংশের কর্মী, এজেন্ট এবং পলিসি হোল্ডারদের নিয়ে আন্দোলনে শামিল হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতীয় জীবন বিমা নিগমের বিভাগীয় বিমা কর্মচারী সংগঠনের কোচবিহার জেলা ‌সহ–‌সম্পাদক দেবাশিস রায়। 
এদিন দপ্তরের সামনে এলআইসি–‌র শেয়ার বিক্রি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভে শামিল হন বিমা কর্মচারীরা। নেতৃত্বের বক্তব্য, এলআইসি–র যা দায়ভার আছে, তার চেয়ে দু’‌লক্ষ কোটি টাকার বেশি সম্পদ বর্তমান রয়েছে। এলআইসি–‌র টাকার বা সম্পদের প্রয়োজন নেই। কারণ তার অর্থের টান পড়েনি। তাহলে কেন শেয়ার বিক্রি করতে চাইছে কেন্দ্র সরকার? এ বছর ২,৬০০ কোটি টাকা ডিভিডেন্ড হিসেবে কেন্দ্রকে তুলে দেওয়া হয়েছে। ঠিক হয়েছে, মঙ্গলবার ঐক্যবদ্ধভাবে এলআইসি দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখাবেন এলআইসি–‌র কর্মচারীদের পাশাপাশি এলআইসি এজেন্ট এবং পলিসি হোল্ডাররা। এক ঘণ্টা কর্মবিরতিও পালন করা হবে।
একই ইস্যুতে সোমবার বিক্ষোভ মিছিল করা হয় জলপাইগুড়ি‌তে। বিভাগীয় বিমা কর্মচারী সমিতির জলপাইগুড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক সৈকত চৌধুরি জানান, কেন্দ্রীয় বাজেটে এলআইসি–র বিলগ্নীকরণের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তাঁদের এই আন্দোলন।‌ এদিন জলপাইগুড়ি শান্তিপাড়ায় এলআইসি–‌র ডিভিশনাল অফিসের সামনে যৌথভাবে বিক্ষোভ দেখান বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের সদস্যরা। ইস্টার্ন জোন ইনসিওরেন্স এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ধ্রুবজ‍্যোতি গাঙ্গুলি বলেন, ‘‌এলআইসি বিক্রি হয়ে গেল এমন একটি বিষয় সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি একেবারেই ঠিক নয়। যে কোনও মূল্যে শেয়ার বিক্রি রোখা হবে।’‌‌

কোচবিহারে এলআইসি কর্মচারীদের বিক্ষোভ। ছবি:‌ প্রসেনজিৎ শীল
 

জনপ্রিয়

Back To Top