পার্থসারথি রায়,জলপাইগুড়ি: বিজেপি–‌‌র বিরুদ্ধে লাগাতার সন্ত্রাসের অভিযোগ এনে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল হল মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়নাগুড়িতে এই মিছিলে জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। মিছিলে অংশ নেন তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী, প্রাক্তন সাংসদ বিজয়চন্দ্র বর্মন, বিধায়ক খগেশ্বর রায় ও মিতালি রায়–‌সহ বিভিন্ন নেতানেত্রী। বিজেপি–‌‌র সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন দলের নেতা–‌কর্মীরা। জেলার বিভিন্ন স্তরের তৃণমূল নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠকও করেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই বিজেপি–‌‌র সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই–‌‌আন্দোলন করা হবে। বৈঠক ও মিছিল শেষে অরূপ সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় লাগাতার সন্ত্রাস চালাচ্ছে বিজেপি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিজেপি একের পর এক তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। গেরুয়া রং করে দেওয়া হচ্ছে পার্টি অফিসগুলো। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের নির্বিচারে মারধর করা হচ্ছে। ময়নাগুড়িতে দলীয় নেতাদের বাড়িতে ডাকাতি করা হচ্ছে।’‌
তৃণমূলের কর্মীদের দাবি, এই হিংসার রাজনীতি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই গোটা জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে লাগাতার সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপি–‌‌র বিরুদ্ধে। দলের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশেই এই সন্ত্রাস চলছে বলে অভিযোগ। সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাস হচ্ছে ময়নাগুড়ি এলাকায়। ময়নাগুড়ির মাধবডাঙা, সাপ্টিবাড়ি, জল্পেশ, রামশাই ও পানবাড়ি এলাকায় একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। ইতিমধ্যেই ময়নাগুড়িতে তৃণমূল নেতা মুকুল দাস ও দেবেন রায়ের বাড়িতে ডাকাতি করে লুঠপাট চালিয়েছে বিজেপি কর্মীরা। এছাড়া একের পর এক হামলা চালিয়ে তৃণমূল কর্মীদের মারধরও করা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের দলীয় অফিস দখল করারও চেষ্টা করছে বিজেপি কর্মীরা। এর প্রতিবাদে জলপাইগুড়ি জেলার ১৬৬৮টি বুথেই প্রতিবাদ মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। শুক্রবারও উত্তরবঙ্গেই থাকছেন অরূপ বিশ্বাস। ওইদিন তাঁর কর্মসূচি রয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলায়।

 ময়নাগুড়িতে মহামিছিল। নেতৃত্বে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। রয়েছেন বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top