গিরিশ মজুমদার, শিলিগুড়ি, ২০ জানুয়ারি- শিলিগুড়িতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অপহরণ–‌কাণ্ডে উঠে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। পুলিশের হাতে ধৃত চার দুষ্কৃতীর মধ্যে একজন বিজেপি–‌র নেতা। ২০১৪ সালে সিকিমের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে বিজেপি–‌র টিকিটও দেওয়া হয়েছিল। শালগাহারি–ঝুম রিংচেংপঙ থেকে লড়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় একাধিক দুষ্কর্মের অভিযোগ রয়েছে। সেই মামলায় অভিযুক্ত বহুদিন জেল খেটেছেন। তাঁর মামলা এখনও চলছে। পুলিশ জেরায় জানতে পেরেছে, অপহরণ মামলায় ধৃত রণজিৎ ঘিমিরের বাড়ি শিলিগুড়ির কাছে সুকনায়। সুকনায় থাকলেও মূল বাড়ি পশ্চিম সিকিমের অরবোটেতে। সেখানে তাঁর নাম রণজিৎ ঘিমিরে ওরফে কামি। বাবার নাম প্রয়াত ভক্ত বাহাদুর কামি। অনেকদিন ধরে শিলিগুড়ির সুকনার কাছে এসে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন অভিযুক্ত। এতদিন বহাল তবিয়তে থাকলেও সদ্য অপহরণ মামলায় ধরা পড়ার পর পুলিশের কাছে এসেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। 
গত ৭ জানুয়ারি শিলিগুড়ির পাঞ্জাবিপাড়া থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কিষান কুমার আগরওয়াল। পরে তাঁর বাড়িতে মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসে। এই ঘটনা পুলিশকে জানানো হয়। পরেরদিন তাঁর স্ত্রী শিশিরদেবী শিলিগুড়ি থানায় অপহরণের অভিযোগ জানান। পুলিশ জানতে পেরেছে, উত্তরপ্রদেশের কুশীনগর থেকে তিনবার এবং বিহারের গোপালগঞ্জ থেকে দু’বার মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসে। পাঁচ কোটি টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। চিন্তিত পরিবারের সদস্যরা ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে দেন। ছেড়ে দেওয়া হয় কিষান কুমারকে। কিন্তু পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পিছু নেয়। 
কিছু তথ্যের ভিত্তিতে বিহারের মজফফরপুর থেকে গ্রেপ্তার করে ৪ জনকে। তাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন ও রবীন ওরাওঁয়ের বাড়ি অসমের তিনসুকিয়া। ফয়েজ আহমেদের বাড়ি বিহারের গোপালগঞ্জ। ধৃত আরেকজন রণজিৎ ঘিমিরের বাড়ি শিলিগুড়ি লাগোয়া সুকনায়। কিন্তু তিনি সিকিমের বিজেপি নেতা। ধৃতদের কাছ থেকে পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে একটি গাড়ি, ১০টি মোবাইল ফোন, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৪৬ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা। ধৃতরা বিহার পুলিশের হেফাজতে ছিল এতদিন। সোমবার মজফফরপুর থেকে শিলিগুড়ি আনা হয়। এদিন শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে নেওয়া হয়। 

শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হচ্ছে অভিযুক্ত সেই বিজেপি নেতা রণজিৎ ঘিমিরেকে। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top