আজকালের প্রতিবেদন: কাওয়াখালির অনিচ্ছুক কৃষকের জমি ফেরাল রাজ্য সরকার। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে দার্জিলিং–জলপাইগুড়ি সংলগ্ন কাওয়াখালির ওই জমি ফেরানোর সিদ্ধান্ত হল। মমতা ব্যানার্জি ২০১১–য় ক্ষমতায় আসেন মূলত জমি আন্দোলন করে। ক্ষমতায় এসে মমতা তাঁর আন্দোলনের ইস্যু ও অনিচ্ছুক জমিদাতাদের কথা ভোলেননি। এর আগে লড়াই, মামলা–মোকদ্দমা করে তাঁর সরকার সিঙ্গুরের জমি ফিরিয়েছে। এবার কাওয়াখালির পালা। পরিমাণে ও অনিচ্ছুক জমিদাতার সংখ্যার বিচারে কাওয়াখালি সিঙ্গুরের সঙ্গে তুলনীয় নয়। পরিমাণ বা সংখ্যা সিঙ্গুরের তুলনায় অনেক কম হলেও রাজনৈতিক গুরুত্বে বা তাৎপর্যে কাওয়াখালি থাকবে সিঙ্গুরের পাশেই।
সোমবার বিকেলে বিধানসভা ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক বসে। বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, কাওয়াখালির ৫২টি পরিবারের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ১১.‌৪৪ একর কৃষিজমি ওই ৫২টি পরিবার নগরায়নের জন্য দিতে চায়নি। তাই তাদের এই জমি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হল। এ কথা জানিয়ে পার্থ চ্যাটার্জির মন্তব্য, ‘‌এই সিদ্ধান্ত নিতে পেরে আমরা খুশি। আজ খুবই আনন্দের দিন। তৃণমূল বিরোধী দলে থাকার সময় এখানে অনিচ্ছুক কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিল, আন্দোলন করেছিল।’
২০০৬–০৭ সালে সিঙ্গুরের আন্দোলনের সময় উত্তরবঙ্গের কাওয়াখালিতে একই ইস্যুতে জমি আন্দোলন আরম্ভ হয়। নেতৃত্বে ছিলেন সেই মমতা ব্যানার্জিই। শিলিগুড়ি–জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাঁদের এলাকায় ‘‌উত্তরায়ণ’‌ নামে উপনগরী তৈরি করে। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন অশোক ভট্টাচার্য। আরও জমি অধিগ্রহণ করতে চান তিনি। কাওয়াখালিতে ৫২টি পরিবারের কাছ থেকে বাধা পান। তাঁরা জমি দিতে চাননি। সিঙ্গুর আন্দোলন তখন ধীরে ধীরে আরও গতি পাচ্ছে। কাওয়াখালির অনিচ্ছুক কৃষকদের সমস্যা শুনে মমতা ব্যানার্জি তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ান। ক্রমে তৃণমূল এখানেও আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে। এই এলাকায় মূলত সবজি চাষ হত। কিছু জমিতে ধানও হত। ২০১১–য় ক্ষমতায় এসে মমতা ব্যানার্জি প্রথম সিঙ্গুরের জমি ফেরত দেওয়ার কাজে হাত দেন। এখন সিঙ্গুরে চাষ হচ্ছে। এবার তিনি কাওয়াখালির জমি ফিরিয়ে দিলেন। 
শিলিগুড়ি থেকে অলক সরকার জানাচ্ছেন, এখানকার হরিচাঁদ মার্কেটের ২.‌১৯ একর জমিও এবার ফেরত আসবে। ওই জমির মালিকরা অনিচ্ছুকদের মধ্যে আছেন। শিলিগুড়ি–জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। কাওয়াখালি ছিকনিকাটা ল্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মণিমোহন বিশ্বাস এদিন বলেন, ‘‌আমরা খুব খুশি। কাল মিষ্টিমুখ হবে। মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতে আমাদের জমি ফেরতের নথি দিলে আমরা আরও খুশি হব।’‌ শিলিগুড়ি–জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘‌বামফ্রন্টের আমলে ওই ৫২ পরিবারের হাত থেকে জমি কেড়ে নেওয়া হয়। মমতা ব্যানার্জি আজ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি যে তাঁর নীতিতে অটল, তা আবার প্রমাণিত হল। এবার আমাদের কাজ দ্রুত অনিচ্ছুকদের হাতে জমি তুলে দেওয়া।’‌‌

কাওয়াখালি উপনগরীর জন্য অধিকৃত জমি। ফাইল ছবি

জনপ্রিয়

Back To Top