অলক সরকার ও গৌতম শিকদার,ইসলামপুর: ২০০১ সালে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ছিল মাত্র ১। সেই একজন ছিলেন ইসলামপুরের আবদুল করিম চৌধুরি। ২০১১ সালে তাই পুনরায় তৃণমূল বিধায়ক হতেই পেয়েছিলেন পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব। অথচ সেই করিম চৌধুরি ২০১৬ সালে পরাজিত হওয়ার পর ২০১৭ সালেই তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। যা নিয়ে দল তো বটেই, ইসলামপুরের সাধারণ মানুষের মনেও ছিল চরম আক্ষেপ। অবশেষে সেই আক্ষেপ মিটিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ফের ইসলামপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী করলেন। সিউড়ির জনসভা থেকে এই ঘোষণা হতেই ব্যাপক উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে গোলঘর থেকে গোটা ইসলামপুরে। উচ্ছ্বসিত করিম মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, মনোনয়ন জমা করার পর থেকেই গ্রামে পড়ে থাকবেন।
১৯৬৯ সাল থেকে এ যাবৎ করিম চৌধুরি ৯ বারের বিধায়ক। একবারের মন্ত্রী। যুক্তফ্রন্ট থেকে কংগ্রেস, তারপর তৃণমূল— যে দলের হয়েই প্রার্থী হয়েছেন, তিনি জিতেছেন। এমনও হয়েছে দল টিকিট দেয়নি। তখন নির্দল হয়েও জিতেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে করিম চৌধুরির রাজনৈতিক জীবন বিচিত্র ঘটনায় ভরা। এতকিছুর পরে তিনি পরাজিতও হয়েছেন বারকয়েক। কিন্তু করিমের অবর্তমানে ইসলামপুরের মানুষ যে অভিজ্ঞতা লাভ করতেন, তাতে পরের নির্বাচনেই আবার তাঁকে বিধায়ক হিসেবে জিতিয়ে এনেছেন। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে করিম চৌধুরি পরাজিত হন। জিতেছিলেন কানাইয়ালাল আগরওয়াল। পরে সেই কানাইয়ালাল তৃণমূলে এসে যাওয়ায় করিমের অভিমান হয়। সরে যান। নিজের দল গড়েন। 
উপনির্বাচনে ফের তৃণমূলের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীও আর বিকল্প ভাবেননি। আর করিম চৌধুরিকে প্রার্থী ঘোষণা করতেই এদিন মানুষের ভিড় জমে যায় গোলঘরে। সৌজন্য সাক্ষাৎ করেই বেলা শেষ হয়ে যায়। করিম জানান, ‘‌দিদি মানুষের মন বুঝে যেভাবে আবার প্রার্থী করেছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। এখন আর আমি ঘরে বসে থাকব না। ২৯ এপ্রিল মনোনয়ন জমা করেই বেরিয়ে পড়ব। গ্রামেই পড়ে থাকব। তাঁদের সমস্যার কথা শুনব। এদিকে, তৃণমূলের স্থানীয় নেতারাও উজ্জীবিত। টাউন তৃণমূলের সভাপতি গঙ্গেশ দে সরকার জানান, ‘‌আমরা করিম চৌধুরিকে জেতাতে মাঠে নামছি। ইসলামপুর ফের তৃণমূলের হাতে ফেরানোর এটা একটা ভাল সুযোগ।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top