পঙ্কজ সরকার‌, মালদা, ৩ জুন- আনলক–ওয়ান লাগু হতেই জমে উঠেছে চেনা ছন্দে কালিয়াচকের লিচুর বাজার। যানবাহন চলাচল একটু একটু করে শুরু হতেই ভিনরাজ্য থেকে আসতে শুরু করেছেন লিচুর কারবারিরা। মুখে হাসি ফোটার মতো দামও পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। 
জানা গেছে, লকডাউনে এবার বেশ ক্ষতি হয়েছে লিচুর। তার মধ্যে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো কালবৈশাখীর তাণ্ডবে আবার ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে কালিয়াচকের সুলতানগঞ্জ, কলেজ মোড়, চামা এলাকা–‌সহ বেশ কিছু এলাকায় লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে লিচু আবার পাকতে শুরু করেছে। লকডাউন ওঠার দিকে তাকিয়েছিলেন কারবারিরা। জেলায় মূলত কালিয়াচকে সিংহভাগ লিচু উৎপাদিত হয়। অন্যান্য ব্লকেও কমবেশি লিচুর ফলন হয়ে থাকে। 
কালিয়াচক–‌১ ব্লক লিচু উৎপাদনে সবার শীর্ষে। এখানকার কালিয়াচক–১, কালিয়াচক–‌২ গ্রাম পঞ্চায়েত সহ আলিপুর–‌১, আলিপুর–‌২, শেরশাহী গ্রাম পঞ্চায়েতে লিচুর উৎপাদন তুলনামূলক বেশি। এখানকার লিচু স্বাদে ও গুণে বেশ আলাদা। কালিয়াচকের চৌরঙ্গি, কালিয়াচক হাট রোড, ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায় বেশ কিছু লিচুর আড়ত রয়েছে। লিচু ব্যবসায়ীরা এই আড়ত থেকে দরদাম করে লিচু নেন। শুধু এই জেলার কারবারিরাই নয়, শিলিগুড়ি, অসম, ঝাড়খণ্ড, বিহার থেকেও ব্যবসায়ীরা আসেন এই আড়তে। এবার লকডাউনের জেরে কারবারিরা আসতে পারছিলেন না। 
দু’‌দিন ধরে ঝাড়খণ্ড, বিহার, কলকাতা থেকে লিচু ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করেছেন। এখন গুটি লিচু প্রায় শেষের দিকে। মুম্বই লিচু উঠতে শুরু করেছে বলে জেলা উদ্যান পালন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গলবার কালিয়াচকের আড়তে ৬০০ থেকে ‌৯০০ টাকা দরে এক হাজার লিচু বিক্রি হয়েছে। এই সময়ের দামটা গতবারের থেকে বেশি। ক্ষতির ফলে লিচুর জোগান কমেছে, ফলে দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কারবারিরা। আড়তদার রামচন্দ্র চৌধুরি, রেজু শেখরা বলেন, ‘লিচুর বাজার এখন চাঙ্গা। দামও পাওয়া যাচ্ছে। এবার কিছুটা লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে।’

কালিয়াচকে জমে উঠেছে লিচুর বাজার। ছবি:‌ প্রতিবেদক
 

জনপ্রিয়

Back To Top