অলক সরকার, শিলিগুড়ি, ৫ আগস্ট

ধর্মের নামে পাহাড় উত্তপ্ত করা চলবে না। এমনই হুঁশিয়ারি দিয়ে কালিম্পঙে পোস্টার সাঁটাল একদল যুবক। ‘‌কালিম্পং সচেত যুবা’‌র নামে দেওয়া ওই পোস্টার নিয়ে ইতিমধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, পাহাড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে এর আগে জনতার নামে পোস্টার পড়লেও ধর্মের নামে অশান্তির বিরোধিতা এভাবে করতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে জিটিএ–‌‌র প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান অনীত থাপাও রামের নাম নিয়ে রাজনীতি করার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অনুরোধ করেছেন, যাতে ধর্মের নামে পাহাড়ের শান্তি নষ্ট না করে কেউ।
উল্লেখ্য, রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর দিন সকালেই পাহাড়ে ‘‌কালিম্পং সচেত যুবা’‌ নাম দিয়ে একদল যুবক ডম্বর চকে পোস্টার সাঁটানো শুরু করে। তাতে লেখা আছে, ‘‌আমরা গোর্খারা সব ধর্মে বিশ্বাসী, ধর্ম নিয়ে পাহাড়ে অশান্তি ছড়াবার চেষ্টা করবেন না। সাবধান।’‌ অভিযোগ, রাম মন্দিরের জন্য এদিন পাহাড়ে লকডাউন উপেক্ষা করেই অনেকে মিছিল করার চেষ্টা করে। পাহাড়ে যেভাবে করোনা বাড়ছে, সেসবের তোয়াক্কা না করে এমন কর্তব্যহীন উন্মাদনা নিয়ে ক্ষুব্ধ জিটিএ–‌‌র চেয়ারম্যান অনীত থাপাও। জানান, ‘‌মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কালিম্পঙে রামের নামে মিছিলের ছবি দেখলাম। এই সময় পাহাড়ে করোনা সংক্রমণ তরতর করে বাড়ছে। সেকারণে লকডাউন চলছে। সবাই তা মেনে চলছেন। অথচ সেসব পরোয়া না করে কালিম্পঙের এই মিছিলকে মেনে নেওয়া যায় না।’‌ এরপরেই তিনি আবেদন করেন, ‘‌আমরা গোর্খা সম্প্রদায় সব ধর্মে বিশ্বাসী। আমরা ধর্মকে সম্মান করি। যে মন্দিরই তৈরি হোক না কেন আমরা খুশি। কিন্তু ধর্মের নামে পাহাড়ের শান্তি নষ্ট করতে চাইলে সেটা মানা যায় না। সবাই রাজনীতিও করতে পারে। কিন্তু ধর্মের নামে রাজনীতি নয়। করোনা সংক্রমণের চেয়েও ধর্মের রাজনীতি ভয়ঙ্কর। পাহাড়ে সেই সংক্রমণ করার চেষ্টা চলছে। এটা এখনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বন্ধ করা দরকার।’‌

কালিম্পং ডম্বর চকে বিভেদের বিরুদ্ধে পোস্টার সাঁটানো চলছে। বুধবার। ছবি:‌ সংগৃহীত

জনপ্রিয়

Back To Top