দিব্যেন্দু ভৌমিক ও অলক সরকার, কোচবিহার ও শিলিগুড়ি, ২৭ মে- মাত্র ২ নম্বরের জন্য মাধ্যমিকের মেধা তালিকা থেকে ছিটকে গিয়েছিল সে। তারপরেই চেপে বসে জেদ। আর সেই জেদের জেরেই উচ্চমাধ্যমিকের মেধাতালিকায় নিজের নাম যুক্ত করে দেখাল দিনহাটা হাই স্কুলের ছাত্র স্বর্ণদীপ সাহা। দিন আনি দিন খাই পরিবারের স্বর্ণদীপ ৪৯৬ নম্বর পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের রাজ্য মেধা তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান দখল করে নিয়েছে। অন্যদিকে একই স্থান দখল করে কোচবিহার জেলাকে গৌরাবান্বিত করেছে কোচবিহার জেনকিন্‌স স্কুলের ছাত্র অনাতপ মিত্র। অনাতপ দু’‌বছর আগেও মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল। মাধ্যমিকে সে ছিল রাজ্যে সপ্তম। মেধার এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারায় গর্বিত রাজনগর। অনাতপ ও স্বর্ণদীপ দু’‌জনেরই গবেষণার দিকে ঝোক। তবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সুযোগ পেলে অনাতপের চলে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। কিন্তু স্বর্ণদীপের লক্ষ্য বিজ্ঞানী। দু’‌জনেই এদিন দিনভর শিলিগুড়িতে ছিল আইআইটি অ্যাডভান্স পরীক্ষার জন্য।  
জানা গেছে, স্বর্ণদীপের বাবা সতীশ চন্দ্র সাহা দিনহাটার চওড়াহাট বাজারের ফুটপাতে লুঙ্গি ও গামছা বিক্রি করেন। মা শিপ্রা সাহা গৃহকর্ত্রী। অভাবের সংসারে ছেলেই তাঁদের একমাত্র স্বপ্ন। তাই কষ্ট করে হলেও তাঁরা ছেলেকে লেখাপড়া করানোর ব্যাপারে কার্পণ্য করেন না। সেই স্বপ্ন থেকে অনেক সাধ করে সতীশ সাহা তাঁর ছেলের নাম রেখেছিলেন স্বর্ণদীপ। স্বপ্ন সফল হবে কিনা তা নিয়ে চিন্তা করতেন বটে, তবে খুব ভয় ছিল না। ছেলের ওপর ভরসা ছিল। ‘‌মাধ্যমিকের রেজাল্টে ভেঙ্গে পড়েছিলাম। কিন্তু আজ খুবই খুশি।’‌ জানালেন দিনহাটার ঝুড়িপাড়ার গর্বিত বাবা। দিনহাটা হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ড. রতন অধিকারী জানালেন, ‘‌ওর মেধা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বরাবরই ভাল ছাত্র। আমরা জানতাম এবারে ও মেধা তালিকায় আসবেই। ওর ইচ্ছে পূরণ হোক!’‌ স্বর্ণদীপ বাংলায় ৯১, ইংরেজিতে ৯৭, পদার্থবিদ্যায় ১০০, রসায়নে ১০০, অংকে ১০০, জীবনবিদ্যায় ৯৯ পেয়েছে।
অন্যদিকে কোচবিহার জেনকিন্‌স স্কুলের ছাত্র অনাতপ মিত্র বাংলায় ১০০, ইংরেজিতে ৯৮, রসায়নে ১০০, অঙ্কে ১০০, পদার্থবিদ্যায় ৯৬, জীববিদ্যায় ৯৮ পেয়েছে।‌ মা ঋতুপর্ণা দেবী জানালেন, খুবই আনন্দ হচ্ছে তার। মাধ্যমিকের থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট আরও বেশি ভাল হয়েছে ছেলের। ক্রিকেট ও গানের প্রতি তীব্র আকর্ষণ অনাতপের। মাংস খেতে খুব ভালবাসে বলে জানিয়েছেন অনাতপের মা। সরকারি চাকুরে বাবা প্রসেনজিৎ মিত্রও উচ্ছ্বসিত ছেলের সাফল্যে। অনাতপ জানালো, দিনে ৫-‌৬ ঘন্টা লেখাপড়া করত। তাতেই এমন রেজাল্ট। তার কথায় মন দিয়ে পড়লে ওইটুকু সময়ই অনেক। আশা ছিল ৪৯০ এর কাছাকাছি নম্বর আসবে। প্রত্যাশার থেকে বেশি আসায় খুশি। 

অনাতপ মিত্র

জনপ্রিয়

Back To Top