সঞ্জয় বিশ্বাস ও অলক সরকার, দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি, ৮ জুন- করোনার থাবায় বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের পর্যটন। বন্ধ ছিল পাহাড়ের সমস্ত হোটেল। পর্যটক না পেয়ে দার্জিলিং পাহাড়ের হোটেল মালিকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জুলাই থেকে পুরোপুরি হোটেল বন্ধ করে দেবেন। কমবেশি ১০ হাজার হোটেল কর্মীর রাতের ঘুম উড়ে গেছিল তখন। শেষে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (‌জিটিএ)‌ ও দার্জিলিং জেলা প্রশাসন। সোমবার জানিয়ে দেওয়া হয়, মঙ্গলবার থেকে খুলে দেওয়া হবে দার্জিলিঙের সব হোটেল। অন্যদিকে হোটেল কর্মীদের মাইনে কীভাবে আসবে তা দেখার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দার্জিলিঙের লালকুঠি থেকে এই ঘোষণা হতেই পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।
দার্জিলিং পাহাড়ে অন্তত ৩০০–‌‌র বেশি হোটেল রয়েছে। কাজ করেন হাজার দশেক কর্মী। এপ্রিল থেকে পর্যটকশূন্য পাহাড়। হোটেলগুলি কার্যত বন্ধ। কর্মীদের মাইনে দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ দার্জিলিং হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজয় খান্না ও সভাপতি সাঙ্গে সিরিং ভুটিয়ার। তাঁরা জানিয়েছিলেন এভাবে কর্মীদের মাইনে দেওয়া সম্ভব নয়, তাই হোটেলই বন্ধ করে দেওয়া হবে। বাদ সাধে কর্মী সংগঠন থেকে প্রশাসন। এদিন বৈঠক বসে জিটিএ–‌‌র কার্যালয় লালকুঠিতে। ছিলেন জিটিএ–‌‌র প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান অনীত থাপা, জেলাশাসক এস পুন্নমবলম থেকে পুলিশ, হোটেল মালিক থেকে কর্মী সংগঠনও। 
অনীত থাপা জানান, ‘‌এই মুহূর্তে সব বন্ধ করে দিলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে পড়বে। কীভাবে কর্মীদের মাইনের বন্দোবস্ত করা যায়, তা দেখা হচ্ছে। েসজন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’‌ হোটেল মালিক সংগঠন প্রশাসনের আবেদনে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কর্মীদের ৩৫ শতাংশ হারে বেতন দিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন চাইছে এই বেতন যাতে বন্ধ না হয়। 
এদিকে ইস্টার্ন হিমালয়ান ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (‌এতোয়া)–‌এর সভাপতি দেবাশিস মৈত্র জানান, ‘‌আমরাও চাই না হোটেল বন্ধ করতে, কিন্তু পর্যটকরা কি পাহাড়ে বাইরে থেকে এসে ঢুকতে পারবেন?‌ প্রশাসন যদি ব্যবস্থা নেয়, আমাদের অসুবিধা নেই।’‌ হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের অন্যতম কর্ণধার সম্রাট সান্যাল জানান, ‘‌জিটিএ, রাজ্য ও কেন্দ্র পাশে থাকলে পর্যটনে আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে।’‌

পাহাড়ে স্বাভাবিক সব। ছবি:‌ সঞ্জয় বিশ্বাস
 

জনপ্রিয়

Back To Top