অলক সরকার, শিলিগুড়ি, ২৬ ফেব্রুয়ারি- কোনও রাসায়নিক নয়, বরং প্রকৃতির ফুল, পাতা দিয়েই তৈরি হচ্ছে আবির। সম্পূর্ণ ভেষজ এই আবির তৈরি করে নতুন দিশা দেখাচ্ছে রাজ্যের বনদপ্তর এবং কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র। বনদপ্তর গত বছর ভেষজ আবির তৈরি করে দারুণ সাড়া ফেলে দিয়েছিল। সব মিলিয়ে ৬ কুইন্টাল আবির তৈরি করলেও, সব শেষ হয়ে যায় মুহূর্তে। এবারে টার্গেট ১১ কুইন্টাল। শিলিগুড়ি লাগোয়া তাইপু বিটে গ্রামের মহিলারাই তৈরি করছেন এই আবির। যেখানে গাঁদাফুল, বেলপাতা–‌সহ নানান প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভেষজ আবির। বনদপ্তরের নিজস্ব স্টল থেকে বিশ্ববাংলার স্টলেও মিলবে এই আবির। বনদপ্তরের এই ৫০০ গ্রাম আবিরের দাম ৭০ টাকা, ২৫০ গ্রাম আবিরের দাম রাখা হয়েছে ৪০ টাকা। শিলিগুড়ি কলেজপাড়া ও স্টেডিয়ামের গোষ্ঠ পাল মূর্তি লাগোয়া বনদপ্তরের স্টলে পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, উত্তরদিনাজপুর কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের গার্হস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. অঞ্জলি শর্মা ভেষজ আবির তৈরির পাশাপাশি গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভর করার নতুন দিশা দেখাচ্ছেন। লড়াইটা শুরু করেছিলেন জেলার চোপড়া থানার পাগলিগছ থেকে। গত বছর সেখানে দুটি দলের মহিলারা বিট, হলুদ, গাঁদাফুল দিয়ে আবির তৈরি করে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। এবারে রায়গঞ্জেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অঞ্জলি শর্মা জানান, আমরা রায়গঞ্জ দেবীনগর ও কান্তনগরে দুটি স্বনির্ভর দলকে আবির তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজ করছি। ওরাও দারুণ করছে। ইতিমধ্যে রায়গঞ্জের একটি সংস্থা বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপনের জন্য ২৫ কেজি আবিরের বরাতও দিয়েছে। এছাড়াও পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন স্টলে। এবারে অবশ্য উত্তর দিনাজপুর কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র অ্যারারুট ব্যবহার করছে। অঞ্জলি শর্মা জানান, শুধু ফুল, পাতা ব্যবহার করতে গেলে আবার প্রাকৃতিক সম্পদে টান পড়ে যাবে। আমরা তাই পরিবেশ ও কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্যসম্মত আবির তৈরি করছি। আগামীতে ভাল প্যাকেটিংয়ের ভাবনা রয়েছে, সেটা হলে ব্র‌্যান্ড তৈরি করে সিটি সেন্টার বা দেশের বাইরেও পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।‌

রায়গঞ্জে স্বনির্ভর মহিলারা আবির তৈরি করছেন। ছবি: আজকাল

জনপ্রিয়

Back To Top