সুনীল চন্দ, রায়গঞ্জ, ১৩ জুলাই

হেমতাবাদের বিধায়কের রহস্যমৃত্যু। সোমবার কাকভোরে রায়গঞ্জ থানার বিন্দোলের বালিয়াড়ি মোড়ে বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান গ্রামবাসীরা। ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সুপার সুমিত কুমার। গলায় দড়ির ফাঁসে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল বিধায়কের দেহ। তবে তঁার বাঁ হাত বাঁধা ছিল, ডান হাত দেহের সঙ্গে সমান্তরালভাবে ঝুলছিল। বিধায়কের পরনে ছিল লুঙ্গি এবং হাতা গোটানো শার্ট। পুলিশ আত্মহত্যা বলেই মনে করছে। সুমিত কুমার বলেন, ‘‌বিধায়কের শার্টের পকেট থেকে সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। ওই নোটে কয়েক জনের নাম রয়েছে। বিধায়ক তাঁর মৃত্যুর জন্য তাঁদেরই দায়ী করে গেছেন।’ সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। 
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাম–কংগ্রেস জোট প্রার্থী হিসেবে জেতেন সিপিএমের দেবেন্দ্রনাথ রায়। ২০১৯–এ মুকুল রায়ের হাত ধরে তিনি বিজেপি–তে যোগ দেন। এদিন বিধায়কের বাড়িতে যান বিজেপি জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী এবং রায়গঞ্জের সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরি। দু’‌জনেই ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন। ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি–র রাজ্য নেতৃত্ব মঙ্গলবার ১২ ঘণ্টার উত্তরবঙ্গ বন্‌ধের ডাক দিয়েছে। 
এদিকে, বিধায়কের এক ভাই রঞ্জিত রায় বলেন, ‘‌দাদা কলকাতার ফ্ল্যাট কেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। মালদার একটি সংস্থার সঙ্গে তুলাইপাঞ্জি চালের ব্যবসা নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিলেন।’‌ এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, বালিয়াড়ার কৃষি সমবায় ব্যাঙ্কের লেনদেন নিয়ে বছর দু‌য়েক আগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল দেবেনবাবুর বিরুদ্ধে। এইসব নিয়ে বেশ চাপেই ছিলেন তিনি। বিজেপি–তে তঁার কোনও গুরুত্বই ছিল না। দলের কোনও কর্মসূচিতেও ইদানীং দেখা যেত না। বেশ হতাশ ছিলেন দেবেনবাবু। 
সিপিএমের জেলা সম্পাদক অপূর্ব পাল বলেন, ‘‌১৯৮০ সালে সিপিএমে আসেন দেবেনবাবু। দু’‌বার গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন বিন্দোলের। তাঁর স্ত্রী চাঁদিমা রায়ও প্রধান হন একবার। ২০১৬ সালে সিপিএমের প্রার্থী হয়ে হেমতাবাদের আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে বিধানসভায় যান।’‌ জেলা কংগ্রেস সভাপতি ও রায়গঞ্জের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্তও ঘটনার যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। 
জেলা তৃণমূল সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বিজেপি–র সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘‌দেবেনবাবুর মৃত্যুর তদন্ত হোক, আমরাও চাই। এই ঘটনায় কোনওভাবেই তৃণমূল জড়িত নয়। ময়নাতদন্ত হলেই বোঝা যাবে দেবেনবাবুর মৃত্যু হত্যা, না আত্মহত্যা।’‌ রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানি বলেন, ‘‌বিধায়কের মৃত্যু দুঃখজনক। যতদূর জানি, দলে অশান্তি নিয়েই উনি হতাশায় ভুগছিলেন।’‌ 
এদিন দেবেন্দ্রনাথ রায়ের বাড়িতে যান মালদা উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু, বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, বিজেপি–র রাজ্য যুব সভাপতি ও সাংসদ সৌমিত্র খঁা, বিজেপি–র রাজ্য সহ–সভাপতি বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরি প্রমুখ। গ্রেটার কোচবিহার পিপল্‌স অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি বংশীবদন বর্মন বলেন, ‘‌এই ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত চাইছি।’

 

জনপ্রিয়

Back To Top