সুদীপ্ত মজুমদার, হলদিবাড়ি, ৫ মার্চ- আচ্ছা, উট কি কাঁটা বেছে খায়?‌ প্রশ্নটা খুবই চেনা। সোনার কেল্লায় লালমোহনবাবু এমনই এক নিরীহ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন প্রদোষ মিত্রের দিকে। উট কী খায়, লালমোহনবাবু জানতেন না। হলদিবাড়ি পুলিসও জানে না। অথচ, হাতের সামনে সিধুজ্যাঠাও নেই। রয়েছে গুগল, উট কী খায় জানতে আপাতত সেটাই ভরসা।
উট বাজেয়াপ্ত করে বেশ বিপাকে হলদিবাড়ি থানার পুলিস। প্রায় কুড়ি দিন ধরে থানা–চত্বরে রাখা হয়েছে বাজেয়াপ্ত করা তিনটি উট। এই উটগুলির খাবার জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন পুলিসকর্মীরা। প্রায় কুড়ি দিন আগে হলদিবাড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনটি উট উদ্ধার হয়। প্রতিটির আনুমানিক মূল্য ১ লক্ষ টাকা। এই উটগুলি নিয়েই বিপাকে পুলিস। সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশের এই প্রাণীদের লালনপালনের কোনও অভিজ্ঞতাই নেই পুলিসের। এদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কেই কোনও ধারণা নেই কারও। ইন্টারনেট ঘেঁটে উটের খাদ্যতালিকা বের করতে হচ্ছে পুলিসকর্মীদের। অন্য ক্ষেত্রে বাজেয়াপ্ত করা পশুখোঁয়াড়ে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এক্ষেত্রে তা–ও সম্ভব হচ্ছে না। খোঁয়াড় কর্তৃপক্ষ উটের দায়িত্ব নিতে নারাজ। আইনি জটিলতায় সেগুলি বিক্রি করা যাবে না। উদ্ধার–হওয়া উট রাজস্থানেই ফেরত দিতে হবে। ইতিমধ্যেই রাজস্থানের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে। কিন্তু কেউ নিতে আসেনি। পুলিসকেই অতিথি আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। থানা চত্বরের সব ফুলগাছ খেয়ে ফেলেছে তিন অতিথি। পুলিসকেই ঘাস কেটে খাওয়াতে হচ্ছে। পুলিসকর্মীরা নিরীহ উটের দিকে তাকিয়েই স্বগতোক্তি করে চলেছেন, ‘‌অতিথি তুম কব যাওগে।’‌ মরুভূমির জাহাজকে ঘিরে এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হবে, কে জানত!

এই সেই অতিথি উট। যাদের নিয়ে নাজেহাল পুলিস। সোমবার, হলদিবাড়িতে।  ছবি:‌ সুদীপ্ত মজুমদার

জনপ্রিয়

Back To Top