গিরিশ মজুমদার, শিলিগুড়ি: প্লাস্টিক এখন এই পৃথিবীর বড় হুমকি। পরিবেশ ধ্বংসকারী এই প্লাস্টিক নিয়ে চিন্তিত পরিবেশপ্রেমী থেকে প্রশাসন। শিলিগুড়িতেও ক্ষতিকারক এই প্লাস্টিকে ছেয়ে গেছে। প্লাস্টিক বন্ধে নানাভাবে শিলিগুড়িতে অভিযান চলছে। সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগও থেমে নেই। প্রতিদিনই প্লাস্টিক বন্ধে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়। কোথাও সচেতনতার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও আবার প্রশাসন পথে নেমে কড়াও হচ্ছে। মাঝে মধ্যে চলে সাফাই অভিযান। কিন্তু তাতেও শহর থেকে প্লাস্টিক নির্মূল হয়নি। এখনও দেখা যাচ্ছে প্লাস্টিকের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নিকাশি নালা। ক্ষতি হচ্ছে চাষাবাদের। শহরের সর্বত্রই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ক্ষতিকারক সব প্লাস্টিক। তাতে দৃশ্যদূষণ হচ্ছে। 
এবার প্লাস্টিকমুক্ত শহর গড়তে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে শহরের একটি সংস্থা। তারা শহরের এক জায়গায় এই ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক জড়ো করতে এক অভিনব উপায় বের করেছে। শিলিগুড়িতে এর আগে ওই সংস্থা ‘‌নিষ্কাম খালসা সেবা এবং গোথালস মেমোরিয়াল স্কুল অ্যালুমনি’‌ ৫ টাকার বিনিময়ে ভরপেট খাবার দিয়ে এসেছে। প্রতি শনিবার তারা রাস্তার পাশে স্টল খুলে এভাবে খাওয়া–‌দাওয়ার ব্যবস্থা করে। এবার একই খাবার দেওয়া হবে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক কুড়িয়ে এনে জমা দিলে। বিশেষ করে ফুটপাথবাসী, ভবঘুরে, কুড়ানিদের কথা ভেবে এই আয়োজন। কুড়ানিরা রাস্তার পাশের প্লাস্টিক এনে জমা দিলেই বিনিময়ে ভরপেট খাওয়ানো হচ্ছে। মেনুতে থাকছে ভাত, ডাল, সবজি, চাটনি, আচার, পাঁপড়। কুড়ানিরা সারাদিন কার্যত না খেয়েই কাটায়। এবার এই কর্মসূচিতে মাত্র ৫০০ গ্রাম প্লাস্টিক কুড়িয়ে এনে জমা দিয়েই ভরপেট খাবার খেয়ে যাচ্ছে। প্রতি শনিবার শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডের মেঘদূত সিনেমা হলের উল্টো দিকে এই স্টল বসবে। শনিবার এই অভিনব উদ্যোগের সূচনা হওয়ায় শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কুড়ানিরা প্লাস্টিক জমা দিয়ে খাবার খেয়ে যায়। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরবাসী। আয়োজক সংস্থার পক্ষে জিএস হোরা বলেন, ‘‌যে কেউ প্লাস্টিক জমা দিতে পারবেন। সংগৃহীত প্লাস্টিক নষ্ট করা হবে। এভাবে প্লাস্টিক জমা দিলে পেটভরে খাবার মিলবে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক কুড়িয়ে আনায় পক্ষান্তরে প্লাস্টিকমুক্ত শহর গড়ে উঠবে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top