গিরিশ মজুমদার, শিলিগুড়ি, ১৮ নভেম্বর- ‘‌আমি যেখানে খুশি যাব। তার জন্য কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন  পড়ে না। সোমবার শিলিগুড়িতে এসে সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা বললেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তিনি বলেন, ‘‌রাজ্যপালকে কোনও এলাকায় যেতে হলে কখনই কারোর অনুমতি নিতে হয় না। রাজ্যপালের এটা সাংবিধানিক অধিকার।’‌ পাল্টা পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বললেন, ‘‌ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে যে–‌কেউ যে–‌কোনও জায়গায় যেতেই পারেন। শুধু জম্মু–‌কাশ্মীর ছাড়া!‌ সেখানে তো কেন্দ্রীয় সরকার সবাইকে যেতে দেয় না। এই রাজ্যে সে সব নেই। রাজ্যপাল অনেক বড় জায়গায় রয়েছেন। সম্মাননীয় পদে রাজ্যের সাংবিধানিক ক্ষমতার শীর্ষে। তাই তিনি ইচ্ছেমতো যেতেই পারেন।’‌
শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউসে রাজ্যপাল এ নিয়ে বলেন, ‘‌দিল্লিতে কী হয়েছে, তা নিয়ে আমাকে কেউ কিছু বলেননি। তাছাড়া কয়েকজন মন্ত্রী রয়েছেন, রাজনীতির লোক রয়েছেন, তাঁরা রাজনীতি করতে গিয়ে কিছু বলে থাকতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে এতদিনে এসব নিয়ে কিছু জানাননি। মুখ্যমন্ত্রীকে আমি সম্মান করি। কিছু জানানোর থাকলে আমি তাঁকেই জানাব। আর কাউকে বলার জন্য আমি বাধ্য নই।’‌ 
রাজ্যপাল এদিন বলেছেন, ‘‌আমি কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্ট, একথা ঠিক নয়। আমার কাজ রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সেতু তৈরি করা। যাতে রাজ্যের মানুষের ভাল হয়।’‌ এই জায়গাটি ধরে পর্যটনমন্ত্রী রাজ্যপালের উদ্দেশে বলেন, ‘‌উনি কেন্দ্রের প্রতিনিধি হয়ে এসেছেন, এবার দিল্লিতে দরবার করুন। ডুয়ার্সে ডানকানসের বন্ধ চা বাগানগুলি খোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী বলে গেলেও, কেন এখনও তা হচ্ছে না?‌ চা বাগানে সমস্যাগুলি কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথভাবে সমাধান করার কথা থাকলেও, কেন্দ্র কেন দেখছে না। 
রাজ্যপাল সিঙ্গুরেও গেছেন। এদিন এই প্রসঙ্গ তুলে ধনকড় বলেন, ‘‌এর আগেও আমি গেছি। প্রয়োজনে আবার যাব। আমি যে কোনও জায়গায় যেতে পারি। তার জন্য সরকারকে না জানিয়ে যাই না। তার জন্যই রাজ্য প্রশাসন সব ব্যবস্থা করে। কিন্তু সেখানে গিয়ে জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে কাউকে পাইনি। এবারও বাগডোগরায় আমাকে আনতে জেলাশাসক কিংবা কমিশনার যাননি। ৫০ দিনেও মুখ্য সচিব দেখা করতে আসেননি। কে আসবেন আর না যাবেন তা নিয়ে আমি বসে থাকি না। আমি আমার কাজ করেই যাব। কলকাতায় না থেকে কলকাতার বাইরে যাব। তবেই আমি সব জানতে পারব। আমি আমার কাজ করতে পিছপা হব না।’‌ রাজ্যপাল সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর অভিযোগ খণ্ডন করেন। কিন্তু তাঁকে অতিথি বলার পক্ষপাতি নন। এ নিয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘‌যাঁরা না বলে আসেন তাঁরাই অতিথি। অতিথি দেব ভব। অতিথিদের আগেও রাজ্য সরকার আপ্যায়ন করেছে এখনও করছে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top