সঞ্জয় বিশ্বাস, দার্জিলিং: পাহাড় জুড়ে ফুটবলের আয়োজন করছে পুলিস। ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে সেই টুর্নামেন্ট। কতটা সাড়া মিলবে, প্রথম দিকে দ্বিধা ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই উন্মাদনা। খোদ বিমল গুরুংয়ের খাসতালুকে ফুটবল নিয়ে রীতিমতো সংক্রামক পরিস্থিতি। গুরুংয়ের বাড়ির ৪ সমষ্টি এলাকাতেই নথিভুক্ত হল ২০টি ফুটবল দলের নাম। যেভাবে সাড়া মিলতে শুরু করেছে, পুলিসের উদ্দেশ্য সফল হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। অবাক করা কথা হল, গোর্খাল্যান্ডের নামে গুরুংয়ের হিংসাত্মক আন্দোলনের প্রভাব পাহাড়ের যে সব এলাকায় সব থেকে বেশি পড়েছিল, যে এলাকা থেকে প্রচুর অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় আতঙ্কে কাঁপছিল, সেইসব এলাকায় পুলিসের করা ফুটবল টুর্নামেন্টে সাড়া সব থেকে বেশি। পুলিসও ওইসব এলাকায় মৈত্রীর বার্তা দিতে ফুটবলকেই হাতিয়ার করেছে। গুরুংয়ের হিংসাত্মক আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দিতে পুলিস যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল, এমনকী পুলিসকে জীবন পর্যন্ত দিতে হয়েছে, সেই পরিস্থিতি যাতে না থাকে, তার জন্য শান্তি ও মৈত্রীর বার্তা ছড়িয়ে পাশাপাশি পাহাড়ের কিশোর, যুবদের পড়া, খেলা ও কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখার কৌশল নিয়েছে। কেউ যেন ভুল পথে পা না বাড়ায়। পাশাপাশি কাজের ব্যাপারে উদ্যম বাড়ে। এর জন্য পাহাড় জুড়ে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন। টুর্নামেন্টের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে— ১)‌ তাকভর গোকে ২)‌ বাদামতাম লেবং ৩)‌ পামদাম ফুবসেরিং ও ৪)‌ পুলবাজার বিজনবাড়ি এলাকাকে। এই তাকভর এলাকার অদূরেই পুলিস অফিসার অমিতাভ মালিককে গুলি করে মারা হয়েছে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু ঘরবাড়ি। লেবং এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র। উল্লেখ্য, এই টুর্নামেন্টের জন্য প্রাইজমানিও বেশ মোটা রাখা হয়েছে। সমষ্টিভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দলকে ৫০ হাজার টাকা, রানার্সকে ৩০ হাজার টাকা, ম্যাচের সেরাকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটাকে পরে পাহাড় জুড়ে করা হবে। সেক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন দলকে দেড় লক্ষ টাকা, রানার্স দলকে ১ লক্ষ টাকা, ম্যাচের সেরাকে ২০ হাজার টাকা, প্রতিযোগিতার সেরা ফুটবলারকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। দার্জিলিং জেলা পুলিসের ডিএসপি সিদ্ধান্ত দর্জি জানান, হিংসা নয়, পাহাড়ে সৌভ্রাতৃত্ব ও স্বাভাবিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে এই আয়োজন। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top