অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা, ১ অক্টোবর - রতুয়া ১ ব্লকের ফুলহার নদীর প্লাবন পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ত্রাণ নিয়ে এখনও বিভিন্ন এলাকায় বানভাসিদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, মালদার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসছেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং জাভেদ খান। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন রাজ্যের আরেক রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা তৃণমূল দলের মালদার পর্যবেক্ষক গোলাম রব্বানি। যদিও রতুয়া ১ ব্লকের দেবীপুর, কাহালা, সূর্যাপুর, বিলাইমারি, মহানন্দাটোলা এলাকার বানভাসিরা এখনও পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারেনি বলেও অভিযোগ। পাশাপাশি ওইসব এলাকায় নিয়মিত ত্রাণ মিলছে না বলেও অভিযোগ তুলেছেন বানভাসিদের একাংশ।
অন্যদিকে, কালিয়াচক ৩ ব্লকের শোভাপুর, পারদেওনাপুর সহ ১০টি গ্রাম গঙ্গার জলে প্লাবিত হয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের উত্তর ভাকুরিয়া, দক্ষিণ ভাকুরিয়া, মিয়াঁ হাট সহ প্রায় সাতটি গ্রাম ফুলহার নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে। ওইসব এলাকায় ত্রাণ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন বানভাসি মানুষেরা। তাঁদের বক্তব্য, দশ দিন পেরিয়ে গেলেও ত্রাণ মিলছে না। পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। বিষয়টি পঞ্চায়েত ও প্রশাসনিক কর্তাদের জানানো হয়েছে। 
জেলার বিভিন্ন ব্লকের প্লাবন পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার প্রশাসনিক স্তরে বৈঠক করেছেন জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য। ত্রাণের বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করেছেন তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী মৌসম নুরও। তিনি বলেন, ‘‌মানুষদের উদ্ধার ও ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানের ক্ষেত্রে দ্রুততার সঙ্গে যাতে কাজ করা হয় সেকথা জেলাশাসককে জানানো হয়েছে। পুজোর মধ্যে কেউ যাতে সমস্যায় না থাকে সেই দিকে লক্ষ্য রাখা হবে। মানুষ যাতে অসুবিধায় না পড়েন সেদিকে নজর রাখছি।’‌ মৌসম জানান, রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবেলা দপ্তরের মন্ত্রী জাবেদ খান ও পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসছেন। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন মন্ত্রী গোলাম রব্বানিও। জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বানভাসি মানুষদের উদ্ধারের পর নিরাপদ স্থানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদেরকে শুকনো খাওয়ার দেওয়া হয়েছে।
গঙ্গার আপার ক্যাচমেন্টে জল বাড়ায় আরও ২–৩ দিন গঙ্গা ও ফুলহার নদীর জল বাড়বে। এই মুহূর্তে ১৫ টি ব্লকের মধ্যে ৭ ব্লক জলবন্দি। যার মধ্যে রয়েছে রতুয়া ১ ও ২, কালিয়াচক ২ ও ৩, হরিশ্চন্দ্রপুর, চাঁচল এবং ইংরেজবাজার। সঙ্গে দুই পুরসভা। তবে দুই পুরসভা এলাকা জলমগ্ন হয়েছে টানা বৃষ্টির জেরে।

 

ফুলহার নদীতে জল বেড়েই চলেছে গত কয়েকদিন ধরে। তারই জেরে রতুয়ায় জলবন্দি হয়ে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। ডুবেছে ঘরবাড়িও। মঙ্গলবার। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top