আজকালের প্রতিবেদন, শিলিগুড়ি, ১৩ জুলাই

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হল উত্তরবঙ্গে। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেকটাই কম। পাহাড়ে নতুন করে বৃষ্টির খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সমতলেও আকাশ মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। বেশ কিছু এলাকায় রোদ উঠতেও দেখা গেছে। ভুটান পাহাড়েও বৃষ্টি থেমে গেছে। যার জেরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদীতে জল কমতে শুরু করেছে। লোকালয়ে জমে থাকা জলও নামতে শুরু করেছে। তবে কোচবিহারের কিছু নদীতে এখনও সেভাবে জল নামেনি বলে খবর। এদিকে, বৃষ্টি থেকে এখনই স্বস্তি ফিরছে না উত্তরবঙ্গে। আবহাওয়াবিদদের দাবি, আগামী আরও কিছুদিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অতি বৃষ্টির সম্ভাবনা র‌য়েছে।
অতিরিক্ত বর্ষণের জেরে কোচবিহার জেলার তোর্সা, রায়ডাক, গদাধর, কালজানি–সহ বিভিন্ন নদীর জল বেড়েছে ক্রমান্বয়ে। এই ধারাবাহিক বৃষ্টিতে জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন। ইতিমধ্যে তুফানগঞ্জ ইজললা দেবী গার্লস হাই স্কুলের অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন বেশ কিছু বন্যা কবলিত পরিবার। তুফানগঞ্জ মহকুমার ওপর দিয়ে বয়ে চলা গদাধর নদী কার্যত ফুঁসছে। অন্যদিকে তিস্তার জলস্তরও বেড়ে যাওয়ার খবর মিলেছে। জল বেড়েছে তোর্সা নদীতেও। যদিও জেলা প্রশাসন সূত্র অনুযায়ী, রবিবার রাতের পর থেকে নদীর জল অনেকটা নামছে। মাথাভাঙা শহরের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় বন্যার জল প্রবেশ করেছে বাড়িতে। বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচাতে মাথাভাঙা মানসাই নদীর পাশে উঁচু জায়গাতে তাঁবু খাটিয়ে রয়েছেন প্রায় ৫০টিরও বেশি পরিবার।
আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন ব্লকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ভুটান পাহাড়ে বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় বিভিন্ন নদীতে জলস্তর নেমে এসেছে। জল নামায় স্বস্তি গোটা এলাকায়। জলপাইগুড়ি জেলাতেও জল নামতে শুরু করেছে। 
অকাল বন্যায় প্লাবিত বিস্তৃত সবজি চাষের জমিও। মাথায় হাত পড়েছে মালদার চাষিদের। শ্রাবণের মাঝামাঝি সময়ে চাষিরা বন্যার জলের হিসেব বুঝে সবজি তুলে থাকেন। এবার সবজি পরিণত হতে ঢের বাকি, তার আগেই কালিন্দ্রী নদীর অকাল বন্যায় দুশ্চিন্তায় তাঁরা। ইংরেজবাজার ব্লকের কোতোয়ালি গ্রামপঞ্চায়েত সতীচূড়া কলোনি এলাকায় কালিন্দ্রী নদীর জল ঢুকে প্লাবিত চাষের জমি। প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে সবজি চাষ হয়ে থাকে এখানে।

এখনও জলমগ্ন কোচবিহারের দিনহাটা–১ ব্লক। ছবি: প্রসেনজিৎ শীল‌

জনপ্রিয়

Back To Top