ইংলিশ বাজার পুরসভার দায়িত্বে মহকুমা শাসক, গোষ্ঠীকোন্দল?

বিভাস ভট্টাচার্য 

গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ। তাই দলের কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি মালদার ইংলিশ বাজার পুরসভার। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইংলিশ বাজার মহকুমা শাসককে। সপ্তাহখানেক আগেই এই দায়িত্ব নিয়েছেন মহকুমা শাসক। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই যুযুধান এবং এই পুরসভার দুই প্রাক্তন চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী এবং নীহাররঞ্জন ঘোষ কেউই আপত্তি জানাননি। বরং গোষ্ঠীকোন্দলের কথা অস্বীকার করে দু’‌তরফই প্রশংসা করেছেন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে।  
প্রায় ১৫২ বছরের পুরনো এই পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরেই দায়িত্বে ছিলেন কৃষ্ণেন্দু। ১৯৯৫ তে প্রথম তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক অনেক কাজই তাঁর আমলে হয়। ২০১৬ তে ইংলিশ বাজার বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনে তিনি হেরে যান নির্দল প্রার্থী নীহাররঞ্জনের কাছে। এরপরেই তৃণমূলের সঙ্গে সখ্যতা বাড়তে থাকে তাঁর। ইতিমধ্যে তৃণমূলের তরফে জেলার পরিদর্শক হিসেবে নিযুক্ত করা হয় শুভেন্দু অধিকারীকে। শেষপর্যন্ত কৃষ্ণেন্দুকে সরিয়ে নীহাররঞ্জনকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৭–র শুরু থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন এই পুরসভার চেয়ারম্যান। এরপর তৃণমূলে যোগ দিলে চাঁচল কেন্দ্রে দল তাঁকে প্রার্থী করে এবং তিনি জয়লাভ করেন। ভোটে দাঁড়ানোর জন্য যেহেতু তিনি চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দেন তাই পুরসভার দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন এগজিকিউটিভ অফিসারকে। 
কিন্তু দেখা গেছে ওল্ড মালদা পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব দলের নেতা ও আগের চেয়ারম্যান কার্ত্তিক ঘোষকে দিলেও ইংলিশ বাজারের দায়িত্ব দেওয়া হয় স্থানীয় মহকুমা শাসককে। 
যা নিয়ে কৃষ্ণেন্দু’‌র বক্তব্য, ‘‌কাজে গতি আনতেই এই সিদ্ধান্ত। ভাল হয়েছে।’‌ নীহাররঞ্জনের বক্তব্য, ‘‌আমি যেহেতু এখন বিধায়ক তাই দুটো দায়িত্ব সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ঠিকই আছে।’‌ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে এর আগেও তিনি যখন চেয়ারম্যান ছিলেন তখনও তিনি বিধায়কই ছিলেন। 
এইমুহুর্তে ইয়াসের প্রভাবে হওয়া বৃষ্টির জন্য ইংলিশ বাজার পুরসভা এলাকা প্রায় জলের তলায়। স্থানীয়স্তরে অভিযোগ শোনা গেছে, পুরসভার উদাসীনতাতেই এই দূরবস্থা। তার মানে কি আগের চেয়ারম্যানের সময়ে নিকাশি ব্যবস্থা অবহেলিত ছিল? উত্তরে নীহাররঞ্জন বলেন, ‘‌এর থেকে আরও ভারী বৃষ্টি চেয়ারম্যান হিসেবে সামাল দিয়েছি। জল জমতে দিইনি। কিন্তু মুশকিলটা হচ্ছে যে বা যাঁরা এখন দায়িত্বে আছেন, তাঁরা যদি কোনও পরামর্শ না চান, তাহলে আমি কী করতে পারি?’‌