আজকালের প্রতিবেদন, শিলিগুড়ি, ১২ আগস্ট- উত্তরবঙ্গ জুড়েই পালিত হল ত্যাগের উৎসব ইদ। নামাজ পড়ে পরস্পরকে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যে দিয়ে উত্তরবঙ্গের সর্বত্র মুসলিম সম্প্রদায়ের এই বিশেষ উৎসব ইদুজ্জোহা বা বকরি–ইদ পালন করা হয়। কোচবিহারে এদিন ইদ কার্যত উৎসবের চেহারা নেয়। সোমবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন মসজিদে নামাজ পড়ছেন ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা। কোচবিহার নেতাজি সুভাষ ইন্ডোর স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে আঞ্জুমান–‌ই–‌ ইসলামিয়া সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দিনটি বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয়। এই সংগঠনের পক্ষ থেকে এদিন স্টেডিয়ামে সমবেত নামাজ পাঠের আয়োজন করা হয়। এদিন নেতাজি সুভাষ ইন্ডোর স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী  রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‌সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের শক্তি। এই সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করতে কিছু অশুভ শক্তি আজ মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। তাদের বিনষ্ট করতে হবে আমাদেরই।’‌ 
অনুষ্ঠানকে ঘিরে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। সম্প্রীতি বজায় রাখতেই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জোর প্রচার অভিযান চালানো হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। রায়গঞ্জের বিন্দোল ও ইটাহারে শান্তিপূর্ণভাবে ইদের নামাজ পাঠ হয়। বিন্দোলে ইদকে কেন্দ্র করে মেলার আয়োজন করা হয়। শুভেচ্ছা জানান উত্তর দিনাজপুর তৃণমূলের সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল, রায়গঞ্জের পুরপ্রধান সন্দীপ বিশ্বাস, ইটাহারের বিধায়ক অমল আচার্য। শিলিগুড়িতে কেন্দ্রীয়ভাবে ইদের নমাজপাঠের আয়োজন করা হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে। এছাড়াও মন্দিরে মন্দিরেও চলে নামাজপাঠ। নমাজপাঠ শেষে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানান মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। জলপাইগুড়ির বিভিন্ন মসজিদেও পালিত হল ইদুজ্জোহা। সোমবার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ চার নম্বর ঘুমটির পুরাতন মসজিদ, নবাববাড়ি ও দিনবাজার মসজিদে বিশেষ নামাজের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। নামাজ শেষ করে একে অপরের সঙ্গে আলিঙ্গনের মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ছোট বড় সকলের সঙ্গে এদিনের আনন্দ ভাগ করে নেন সকলে।
মালদার বিভিন্ন প্রান্তে সকাল থেকে উৎসবমুখর ছিলেন মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষ। এদিন সবচেয়ে বড় নমাজপাঠ হয় সুজাপুর নয় মৌজা মাঠে। সেখানে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে নমাজ পাঠ করেন। এছাড়াও হরিশ্চন্দ্রপুর, চাঁচল, গাজোল, পুরাতন মালদা, এবং ইংরেজবাজার ঈদগা মাঠ নমাজ পাঠ করেন মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষ। হরিশ্চন্দ্রপুর–‌১ নং ব্লকের অন্তর্গত যে কয়েকটি বড় ইদের জামাত হয় তার মধ্যে বাংরুয়া গ্রাম উল্লেখযোগ্য। নমাজের পর গোটা গ্রামের মানুষ পরস্পরকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তারপর শান্তিপূর্ণভাবে কুরবানি দেওয়া হয়। গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও ইদের খুশিতে মেতে ওঠেন। গ্রাম্য কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন ও সম্পাদক হাজি আব্দুর রহমান জানান, বাংরুয়া  গ্রামে উভয় ধর্মের অনুষ্ঠানে আমরা একে অপরের খুশি ভাগ করে নিই। এটা আমাদের চিরাচরিত সংস্কৃতির অঙ্গ।

ইদের শুভেচ্ছা। আলিঙ্গনে মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। কোচবিহারে, সোমবার। ছবি:‌ প্রসেনজিৎ শীল
 

জনপ্রিয়

Back To Top