পবিত্র মোহান্ত, বালুরঘাট, ৩০ সেপ্টেম্বর- এবারের পুজোতে দর্শকদের ৫১ পীঠের দর্শন করাবে হিলি ত্রিমোহিনী অমর ফ্রেন্ডস্‌ স্টাফ ক্লাব। অন্য দিকে দুর্গা থেকে কালী সৃষ্টির পুরাণ আশ্রিত কাহিনী তুলে ধরছে হিলিরই বিপ্লবী সঙ্ঘ। এই দুই বিগ বাজেটের পুজোকে ঘিরে বিপুল উৎসাহ রয়েছে জেলার সাধারণ মানুষের।
হিলি ত্রিমোহিনী অমর ফ্রেন্ডস্‌ স্টাফ ক্লাবের উদ্যোগে সতীর ৫১ পীঠের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে পুজো মণ্ডপে। এবছর ক্লাবের ৪৯ বছর। সুবর্ণ জয়ন্তীকে সামনে রেখে এবছর থেকেই দর্শকদের কাছে এই ক্লাবের পুজোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চাইছেন পুজোর উদ্যোক্তারা। হিলির মৃৎশিল্পী গোবিন্দ পাল গত দেড় মাস ধরে সতীর বিভিন্ন পীঠের দৃশ্যকে ফুটিয়ে তুলতে কাজ করে চলেছেন। প্রতিমার সঙ্গে সাজুয্য রেখে তৈরি হচ্ছে বৌদ্ধ মন্দিরের আদলে বিশাল মণ্ডপ। পুজো মণ্ডপে হরিতকি, সুপারি, নানা রবিশষ্য দিয়ে সুক্ষ্ম কারুকার্য ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। মণ্ডপের পাশাপাশি আলোকসজ্জাতেও সকলের আকর্ষণ বাড়াতে একদিকে যেমন ছোটোদের জন্য থাকছে নানা কার্টুনের দৃশ্য, তেমনই বড়দের জন্য থাকছে সামাজিক বার্তা। পুজোর সময় বস্ত্রদানের  উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ক্লাবের তরফে।
 ত্রিমোহিনী অমর ফ্রেন্ডস স্টাফ ক্লাবের সম্পাদক কৌশিক মাহাতো জানান, প্রতিমা, আলো ও মণ্ডপের কাজে স্থানীয় শিল্পীদের লাগানো হয়েছে। গত বছর জেলার সেরা প্রতিমার পুরস্কার পেয়েছিল এই ক্লাব। এবারেও সতীর ৫১ পীঠের আকর্ষণে এই মণ্ডপে ভীড় উপচে পড়বে বলে উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস। 
অন্যদিকে, জেলার বিগ বাজেটের পুজোগুলোর মধ্যে অন্যতম হিলি বিপ্লবী সঙ্ঘের পুজো। প্রতিবছরই বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া এই পুজো দেখতে ভিড় জমান রাজ্যের বিভিন্ন জেলার লোকজন। এবারে ক্লাবের ৫১ বছরে এই মণ্ডপে দুর্গা থেকে কালীর সৃষ্টির কাহিনী তুলে ধরা হচ্ছে। মন্দিরের আদলে এক বিশাল মণ্ডপ গড়ে তোলা হচ্ছে। বালুরঘাটের ভাই ডেকোরেটর্স দীর্ঘ এক মাস ধরে থার্মোকলের উপর প্লাস্টার অফ প্যারিসের কাজ ফুটিয়ে তুলছে। শতাধিক শিল্পী দিনরাত এক করে মণ্ডপের কাজ করে চলেছেন। প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপ ও আলোক সজ্জাতেও থাকছে বাড়তি আকর্ষণ। ‌পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা তথা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী অমূল্যরতন বিশ্বাস জানান, এবারে আলোকসজ্জায় থাকছে সুবিশাল সাতটি এলইডি আলোর তোরণ। মণ্ডপে প্রবেশের সময় সেই সব আলোর তোরণ পার হয়ে দর্শকদের ঢুকতে হবে। স্থানীয় মৃৎশিল্পী গোবিন্দ মণ্ডল প্রতিমা গড়ার কাজ করছেন। প্রতিবারের মতো এবারেও দশমীর পরদিন থাকছে হিলির যমুনা নদীতে বাজি প্রদর্শনী। পুজোর সময়ে দুঃস্থদের বস্ত্রদানের কর্মসূচি রয়েছে। ‌

দক্ষিণ দিনাদপুরের হিলি বিপ্লবী সঙ্ঘের পুজোমণ্ডপ। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top