অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার, ২ ডিসেম্বর- পাড়ার কুকুরের তাড়া খেয়ে সটান ঢুকে পড়েছিল থানায়। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। শেষমেশ প্রাণে বাঁচতে থানা চত্বরের এক শিমুলগাছের মগডালে আশ্রয় নিয়েছিল। না, কোনও মানুষ নয়। গাছে উঠে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল এক বেড়াল। আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম থানার ঘটনা। এতটাই আতঙ্কিত ছিল যে, টানা ১০ দিন ধরে গাছেই বসে ছিল বেড়ালটি। ভয়ে নামতে পারেনি। সেই বেড়ালকে গাছ থেকে নামাতে এলাকার লোকজন থেকে পুলিশ হেন বুদ্ধি নেই যে অপচয় করেনি। কিন্তু কিছুতেই লাভের লাভ হয়নি। শেষে ১০ দিনের মাথায় দমকলের কর্মীদের ডেকে প্রায় মরতে বসা বিড়ালটিকে গাছ থেকে নামিয়ে আনা হয়।
জানা গেছে, ৯ দিন আগে থানা চত্বরে এক কুকুর ধাওয়া করে বেড়ালটিকে। বিড়াল নিরাপদ আশ্রয় ভেবে থানার মধ্যে ঢুকে পড়ে। কিন্তু কুকুর বাবাজিও সেখানে হাজির। ব্যাপারটি পুলিশকর্মীদের নজরেও আসে। থানার মধ্যে থেকে ফের তাড়া করলে কয়েকজন পুলিশকর্মী এগিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে বিড়াল শিমুল গাছের প্রায় ষাট ফুট ওপরে উঠে গেছে। নীচে চিৎকার করে চলেছে কুকুর। পুলিশ কর্তারা ভেবেছিলেন সময় হলে, সুযোগ বুঝে ঠিকই নেমে আসবে সে। কিন্তু টানা ৯ দিন গড়িয়ে গেলেও গাছ থেকে নামেনি বেড়াল। এতে উদ্বেগে পড়ে যান খোদ থানার আইসি বাসুদেব সরকার। ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়ে। দিনে দিনে না খেতে পেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল বিড়াল। শেষমেশ আইসি রবিবার সকাল সকাল কুমারগ্রামের দমকলকর্মীদের ডেকে থানায় নিয়ে আসেন। সঙ্গে ছিল উঁচু ল্যাডার। দিনভর চলে বেড়াল উদ্ধারের কাজ। 
প্রথমে গাছের মগডালে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থেকে টানা জল ছুঁড়েও বাগে আনা যায়নি বেড়ালকে। গাছের সঙ্গে ল্যাডার লাগিয়ে তার নাগাল পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন দমকলকর্মীরা। গাছের নীচেও লাগানো হয়েছিল নেট। কিন্তু সারাদিনের শেষে দেখা যায় সে আরও উঁচুতে উঠে গেছে। রবিবার দিনের শেষে একরকম বাধ্য হয়ে ফিরে যান দমকলকর্মীরা। তবে হাল ছাড়েননি আইসি বাসুদেব সরকার। ডেকে আনা হয় বোলগুড়ির দক্ষ কাঠুরে বিমল দাসকে। আইসি–‌র নির্দেশ পেয়ে লম্বা কাছির সাহায্যে সহজেই আশ্রয় নেওয়া ওই বেড়ালের কাছে পৌঁছে যান বিমলবাবু। টানটান উত্তেজনা। গাছের নীচে তখন ঠায় দাঁড়িয়ে বাসুদেব সরকার। মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যেই বিশেষ দক্ষতায় বেড়ালকে ব্যাগ বন্দি করে মাটিতে নামিয়ে নিয়ে আসেন বিমলবাবু। তবে টানা দশদিন না খেতে পেয়ে দুর্বল হয়ে গেছিল বিড়ালটি। উদ্ধারের পর কুমারগ্রাম থানাতেই ছেড়ে দেওয়া হয় ওই বেড়ালকে। আইসি বাসুদেব সরকার জানিয়েছেন, ‘‌বেড়ালটির ওই অবস্থা দেখে কারোরই ভাল লাগছিল না। তাই অবলা জীবের প্রাণ বাঁচাতে একটু ঝামেলা কাঁধে নিতে হয়েছে।’‌

তখনও উদ্ধার করা যায়নি। গাছের ডালে বসে আছে অসহায় বেড়াল। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top