সঞ্জয় বিশ্বাস, দার্জিলিং, ২৭ জানুয়ারি- বিজেপি–‌‌র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য নিয়ে আগেই ক্ষোভ জানিয়েছিলেন খোদ বিমল গুরুংপন্থী মোর্চার মুখপাত্র বি পি বাজগাই। দিলীপকে গোর্খাদের ইতিহাস নিয়ে লেখাপড়া করারও নিদান দিয়েছিলেন। আর সোমবার বিনয় তামাং দিলীপ ঘোষের মন্তব্য তুলে ধরে বিজেপি থেকে গুরুং, সকলের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন। সেইসঙ্গে গোর্খাদের ব্যাপারে বিজেপি যে আন্তরিক নয়, সেই অভিযোগও এনেছেন তিনি। অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি–‌র নেতাদের ভাষণে ক্ষুব্ধ জিএনএলএফ নেতারা দ্রুত অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করে স্পষ্ট জবাব চাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার শিলিগুড়িতে দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, ‘‌নেপাল থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা সবাই ভারতীয়। তাঁদের জন্য এই আইন (‌সিএএ/‌এনআরসি)‌ লাগু নয়। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যেসব সংখ্যালঘু এসেছেন, তাঁদের জন্য এই আইন। গোর্খারা যেমন আছেন, তেমন থাকবেন।’‌ এই প্রসঙ্গে ১৯৫০ সালে নেপাল–‌‌ভারতের চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন। 
বিনয় তামাং এদিন প্রেস বিবৃতি দিয়ে জানান, ‘‌বিজেপি–‌র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বারবার গোর্খাদের নিয়ে যে বিবৃতি দিচ্ছেন, তা গোর্খা সম্প্রদায়ের পক্ষে মোটেও ভাল নয়।’‌ এরপর তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘‌দিলীপ ঘোষের বক্তব্য কি বিজেপি–‌র বক্তব্য? শিলিগুড়িতে দিলীপ ঘোষের দেওয়া বিবৃতি পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, গোর্খাদের কেবল ভোটের জন্যই ব্যবহার করছে বিজেপি।’‌ এরপরই তিনি ১৯৫০ সালের ইন্দো–‌‌নেপাল চুক্তির প্রসঙ্গ তুলেছেন। দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ ছিল ১৯৫০ সালের চুক্তি মতে, নেপাল থেকে আসা সবাই ভারতীয়। গোর্খাদের কার্যত নেপালি বলে চালিয়ে দিয়েছেন। এতেই চরম আপত্তি ওঠে। বিনয় তামাং জানিয়েছেন, ‘‌দিলীপ ঘোষ কি ইতিহাস পড়েছেন?‌ তিনি কি আমাদের দুর্গা মল্লা, রাম সিং ঠাকুরি, অরি বাহাদুর গুরুংয়ের মতো ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে জানেন? গোর্খারা হলেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি অংশ।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top