পার্থসারথি রায়, জলপাইগুড়ি: বাড়িতে বিবাহযোগ্য তিন মেয়ে। অন্যদিকে, বাবার দিয়ে যাওয়া জমির ভাগ চাইছিলেন দাদারা। এই নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই অবসাদের জেরেই বৃহস্পতিবার বিকেলে গরুমারা জঙ্গলের রাস্তায় বুনো হাতির কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সিদ্দিক হোসেন। এমনটাই মনে করছেন মৃত সিদ্দিকের পরিবারের লোকেরা। কারণ, রাস্তার ওপার থেকে তাঁর সামনে বিশালাকার হাতিটি চলে এলেও নিজেকে রক্ষা করার কোনও চেষ্টাই করতে দেখা যায়নি তাঁকে। বরং হাতির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে হাসিমুখে স্যালুট করতে দেখা গেছে।
অসংখ্য মানুষের সামনে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সিদ্দিককে পিষে মেরেছে বুনো হাতিটি। এই ঘটনার পর শোকের ছায়া জলপাইগুড়ির বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কুকুরজান গ্রাম পঞ্চায়েতের চাউলহাটি সংলগ্ন গড়িয়াপাড়া এলাকায়। শুক্রবার সন্ধেয় সমাধিস্থ করা হয় সিদ্দিকের দেহ। স্বামীর এই আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন সিদ্দিকের স্ত্রী আলিমা খাতুন। বাবার এমন মৃত্যুর ঘটনায় শোকে বিহ্বল তাঁর তিন মেয়েও। 
জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল কো–অপারেটিভ ব্যাঙ্কে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতেন সিদ্দিক। ব্যাঙ্কের সিনিয়র ম্যানেজার তপন ব্যানার্জি জানান, সিদ্দিককে খুব ভাল করেই চিনতেন তিনি। তাঁর যে এভাবে মৃত্যু হবে কেউই তা ভাবতে পারছেন না। ‘‌সুপার সিকিউরিটি সার্ভিস’‌ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে তিন বছর আগে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি পেয়েছিলেন সিদ্দিক। এর আগে বাড়িতে কৃষিকাজ করেই সংসার চলত তাঁর। তপনবাবু জানান, বৃহস্পতিবার সকালে জলপাইগুড়ি থেকে ব্যাঙ্কের টাকা নিয়ে শিলিগুড়ি ব্যাঙ্ক ও মালবাজার ব্যাঙ্কে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে জলপাইগুড়ি ফেরার সময় রাস্তায় তাঁকে পিষে মারে হাতিটি। 
পরিবারের লোকেরা জানান, জীবিত থাকাকালীন তাঁর বাবা মহম্মদ হাফিজুদ্দিন চার বিঘা জমি কিনে দিয়েছিলেন সিদ্দিককে। সেই জমিতেই চাষাবাদ করতেন তিনি। পরে মা সপিলা খাতুনের নামে জমিটি রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল। বাবা–‌মায়ের মৃত্যুর পর ওই জমির ভাগ চেয়ে বসেন ভাইয়েরা। তাই নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে সিদ্দিকের পরিবারে অশান্তি চলছিল বলে জানান স্থানীয় তৃণমূল নেতা মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘‌মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন সিদ্দিক। সম্ভবত তার জেরেই বুনো হাতির কাছে নিজেকে সঁপে দিলেন তিনি।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top