সঞ্জয় বিশ্বাস ও অলক সরকার, দার্জিলিং ও দুধিয়া: তুষার পড়ছেই সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বিশেষ করে রবিবার উত্তর সিকিমে তুষারপাত হয়েছে বেশি। দক্ষিণ সিকিমও বাদ যায়নি। লাচুন, ইয়ুংথামের ছবি ছিল দেখার মতো। দার্জিলিঙেও তাপমাত্রা শূন্য ছুঁই–ছুঁই। তবে রবিবার পর্যন্ত তুষারপাতের খবর নেই। তাতে কী, ওপর থেকে ঝরছে না ঠিকই, কিন্তু মাটিতে থাকা জল জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সান্দাকফু, ফালুট জুড়ে পানীয় জল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এদিন। মুহূর্তে সব বরফে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। সেই বরফ গরম করে পানের জল জোগাড় করতে হচ্ছে। এই ছবি ভোরের দিকে টাইগার হিলেও দেখা গেছে। সেখানেও কাকভোরে যাঁরা সূর্যোদয় দেখতে গেছেন, তাঁরা সাদা বরফে ছেয়ে থাকা এলাকা দেখতে পেয়েছেন। টাইগার হিলের প্যাভেলিয়ন ম্যানেজার প্রদীপ লামা জানিয়েছেন, এখানে মাঝরাত থেকে ভোর পর্যন্ত তাপমাত্রা শূন্যর নিচে নেমে গিয়েছিল। তাই এমন পরিস্থিতি। এতে স্থানীয় মানুষদের খুব সমস্যা হলেও পর্যটকেরা কিন্তু উচ্ছ্বসিত। অনেকেই আশায় ভর করে আবার দার্জিলিং ছুটতে শুরু করেছেন। যা শীত পড়েছে, তাতে যে কোনও সময় শৈলশহর দার্জিলিঙেও তুষারপাত হবে বলেই আশা অনেকের। অন্যদিকে, সিকিমের তুষারপাতের খবর ছড়াতেই প্রচুর পর্যটক সিকিম অভিমুখে যাচ্ছেন। যদিও রাস্তাঘাট বিপজ্জনক থাকায় সিকিম পুলিস সবাইকে সব রুটে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছে না। পাহাড় তো বটেই, উত্তরবঙ্গের সমতলেও তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ওপরে ওঠেনি এদিন। মালদা, উত্তর দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ারের তাপমাত্রা এমনিতে কম, সঙ্গে উত্তুরে হাওয়ার জন্য মনে হয়েছে উষ্ণতা যেন ৫ ডিগ্রির নিচে নেমে গেছে। একই অবস্থা শিলিগুড়িতেও। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় মজা করে সবাই লিখছেন, ‘ছাদে গিয়েছিলাম। গরিবের দার্জিলিং ঘোরা হয়ে গেল।’ তবে দার্জিলিং শহরে কিন্তু দিনের বেলায় এদিনও রোদ উঠেছে। আকাশ ছিল ঝলমলে। কাঞ্চনজঙ্ঘা দারুণ দেখা গেছে। পর্যটকেরা সেই ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন। নিমেষে সে সব ছবি ঝলমল করে উঠল সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিছু কিছু ছবি ভাইরালও হয়ে গেল। কিন্তু সমতল কুয়াশায় ঢাকা। মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। যত্রতত্র আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণ হচ্ছেন সবাই। তবে এদিন বছরের প্রথম রবিবার থাকায় এই ঠান্ডার মধ্যেও পিকনিকের ভিড় কমেনি, বরং বেশি দেখা গেছে। দূরপাল্লার ট্রেন প্রচুর দেরিতে ঢুকেছে উত্তরবঙ্গে। কিন্তু বাগডোগরা বিমানবন্দরে উড়ানের ওঠানামা নিয়ে কোনও সমস্যা হয়নি। ২১টি উড়ান ঠিক সময়েই চলেছে। দৃশ্যমানতা কম থাকায় জাতীয় সড়কে এদিনও বাস ট্রাক স্বাভাবিক গতিতে চলেনি। পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসার পর এমন জোরদার ঠান্ডা পড়ায় পর্যটন ব্যবসায়ীরাও আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। এমনিতে এই সময়ে ভরা পর্যটন মরশুম নয়, তারপরেও একদিকে পাহাড়ে পর্যটন উৎসব, এরপর জমাটি ঠান্ডা, এ সবের কারণে কিছু কিছু পর্যটক নিয়মিত পাহাড়ে উঠছেন। ব্যারাকপুরের সন্দীপ চ্যাটার্জি পাহাড়ে ওঠার সময় দার্জিলিং মোড়ে দাঁড়িয়ে জানালেন, তাপমাত্রা আন্দাজ করে দার্জিলিঙে যাচ্ছি। কপালজোরে যদি তুষার পেয়ে যাই, তবে সেটা নতুন বছরের সেরা প্রাপ্তি হবে। ‌‌

দার্জিলিং জমজমাট। রবিবার। ছবি: সঞ্জয় বিশ্বাস

জনপ্রিয়

Back To Top