অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার, ৫ ফেব্রুয়ারি- বাঘের জন্য খাবার এল এবার উত্তর ২৪ পরগনা থেকে। দুটি ট্রাক ভর্তি ৪১টি স্পটেড ডিয়ারকে রবিবার ও সোমবার ছাড়া হল রাজাভাতখাওয়ার গভীর অরণ্যের ২৫ মাইল টাওয়ার লাগোয়া বিশেষ ‘এনক্লেভে’। নতুন পরিবেশ। হরিণগুলিকে অন্তত এক মাস নতুন এনক্লেভে রাখা হবে। নজর রাখা হবে প্রতিটি হরিণের স্বাস্থ্যের ওপর। মার্চের  প্রথম সপ্তাহে সব ক’‌টি হরিণকে একসঙ্গে ছাড়া হবে বক্সার জঙ্গলে। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে মালদার আদিনা পার্ক থেকে ২১টি একই প্রজাতির স্পটেড ডিয়ার (‌স্বর্ণ মৃগ)‌ এনে ছাড়া হয়েছিল বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রাজাভাতখাওয়া, জয়ন্তী এলাকায়। ট্রাকে ফের একই কায়দায় আনা হল আরও হরিণ। ৪১টি নতুন হরিণের মধ্যে পুরুষ ১১টি, স্ত্রী ১২টি, সাব অ্যাডাল্ট ১৮টি। উল্লেখ্য, নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানে ইতিমধ্যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের হদিশ পাওয়া গেছে। তবে বক্সায় বাঘের অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্ক ছিল। বক্সায় ভিন রাজ্য থেকে রয়্যাল বেঙ্গল এনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও পাকা। ২০১৯–এ প্রথম দফায় চারটি রয়্যাল বেঙ্গল আনা হবে। তবে তার আগের পদ্ধতি হিসেবে চলছে  হরিণ ছাড়ার কাজ। পরবর্তী পর্যায়ে বাঘের আহার হিসেবে সম্বর হরিণ এমনকী বাইসন (‌গাউর)‌ পর্যন্ত ছাড়া হবে। 
কেন স্পটেড ডিয়ার?
বক্সায় একসময় প্রচুর স্পটেড ডিয়ার ছিল। এখন সংখ্যা তলানিতে। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের খাদ্য হিসেবে অন্যতম পছন্দ এই প্রজাতির হরিণ। অন্যান্য প্রজাতির হরিণের থেকে অনেক দ্রুত বংশবৃদ্ধি পায় স্পটেড ডিয়ারদের। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গল যথেষ্ট ঘন, স্পটেড ডিয়ারদের দ্রুত ছুটে পালানোর ক্ষমতা অন্যান্য প্রজাতির থেকে কম। অধিকাংশ সময় প্রায় দলবদ্ধভাবে থাকে হরিণগুলি। রয়্যাল বেঙ্গলের ক্ষেত্রে এমন হরিণ মেরে নিজেদের খাবার জোগাড় করাটা কিছুটা সুবিধাজনক। বনকর্তাদের মতে, স্টপেড ডিয়ার সংগ্রহ করাও সহজ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই প্রজাতির হরিণের দেখা মেলে। এদিকে, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে এবার কার্যত মরিয়া বন দপ্তর। প্রায় ৫০০ গোপন ক্যামেরা বসছে বাঘবনে। বনকর্তাদের অনুমান, হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে বক্সার দুর্গম প্রত্যন্ত পাহাড় ঘেঁষা এলাকায় থাকা রয়্যাল বেঙ্গল শিকারের সন্ধানে আরও কিছুটা সমতলে চলে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে সিসি ক্যামেরাতে ছবি ধরা পড়ার সম্ভাবনা আরও বাড়বে। ক্ষেত্র অধিকর্তা এমএস মুরুলি জানান, ধাপে ধাপে হরিণ এনে সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এটা ‘টাইগার অগমেন্টেশন প্ল্যানের’ মধ্যেই রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ঘাসবন তৈরি করেছি। আশা করছি রয়্যাল বেঙ্গলের জন্য দ্রুত উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে। আপাতত বিশেষ এমক্লেভটিতে কড়া নজরদারি থাকছে। প্রকৃতিপ্রেমিকদের দাবি, বরাবরই মানুষের লোভের শিকার হয়েছে স্পটেড ডিয়ার। বক্সাতেও চলে চোরাগোপ্তা শিকার। কড়া নজরদারি রাখুক বনদপ্তর। তাহলেই পুরোপুরি সফল হবে অগমেন্টেশন প্ল্যান। 

বক্সায় ছাড়া হল স্পটেড ডিয়ার। ছবি:‌ অম্লানজ্যোতি ঘোষ‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top