অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা, ১৯ ফেব্রুয়ারি- রবিবার গভীর রাতে প্রাক্তন সেনাকর্মীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতি। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে নগদ ৩ লাখ টাকা, ৮ ভরি সোনা নিয়ে বোমা ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালিয়ে যায় ৪০–‌‌৪২ জনের সশস্ত্র বাহিনী। ইংরেজবাজার থানার শোভানগরের ব্রাহ্মণপাড়ায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বোমাবাজি ও গুলি চালানোর পর ৪০ মিনিট ধরে ওই বাড়িতে লুঠপাট চলে। এই ঘটনায় পুলিসের সঙ্গে ডাকাত দলের গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীদের একাংশ৷ স্থানীয় এক গ্রামবাসী সুকদেব মিশ্র বলেন, ‘‌ডাকাতরা বোমাবাজি শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই মিল্কি পুলিস ফাঁড়িতে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু ৩ কিলোমিটার দূরে মিল্কি ফাঁড়ি থেকে পুলিস আসে দেড় ঘণ্টা পর।’‌ অথচ দু’‌মাস আগে পুলিস সতর্ক করেছিল, প্রাক্তন সেনাকর্মী মিহির চৌধুরির বাড়িতে ডাকাতির ছক কষা চলছে। তার পরও কেন পুলিস আগাম কোনও ব্যবস্থা নিল না, প্রশ্ন এলাকার মানুষের। 
আক্রান্ত মিহির চৌধুরি (‌৬১)‌ সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসরগ্রহণের পর কাঁচা মালের ব্যবসা শুরু করেন৷ তাঁর বেশ কয়েকটি আমবাগান আছে৷ এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত৷ মিহির চৌধুরি জানান, ‌রবিবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ তাঁদের বাড়িতে হানা দেয় সশস্ত্র ডাকাত দল৷ ডাকাতি করার আগে এলাকাবাসীদের ভীত–‌সন্ত্রস্ত করতে দুষ্কৃতীরা বোমাবাজি করে, গুলি ছোঁড়ে৷ মিহিরবাবু ছাড়াও আহত হন তাঁর স্ত্রী স্মৃতি চৌধুরি, ছেলে সোনাই ও পুত্রবধূ তৃণা চৌধুরি৷ 
ডাকাতরা বাঁশের মই নিয়ে নদীপথে ডাকাতি করতে এসেছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা৷ তারা পালিয়ে যাওয়ার অনেক পরে ঘটনাস্থলে আসে মিল্কি ফাঁড়ির পুলিস৷ এ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামবাসীরা৷ তাঁদের ধারণা, এই ডাকাত দলের সঙ্গে পুলিসের যোগসাজশ রয়েছে৷ 
মিহিরবাবুর স্ত্রী স্মৃতি চৌধুরি বলেন, ‘‌গতকালের ঘটনা এখনও ভুলতে পারছি না। যেভাবে ঘরে ঢুকে আমাদের মারধর করেছে ডাকাত দল, তাতে এখনও আতঙ্কে আছি।’‌ পুলিস এই ডাকাতির ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। আইসি পূর্ণেন্দু কুণ্ডু বলেন, ডাকাতির খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে যায় পুলিস। পুলিস সুপার অর্ণব ঘোষ জানিয়েছেন, গতকালের ঘটনায় দুষ্কৃতী দলকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে৷ গ্রামবাসীদের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷‌‌‌

জখম সেনাকর্মী মিহির চৌধুরি। শোভানগর ব্রাহ্মণপাড়ায়। ছবি:‌ অভিজিৎ চৌধুরি

জনপ্রিয়

Back To Top