গিরিশ মজুমদার, শিলিগুড়ি, ২৯ এপ্রিল- গরমের ছুটিতে সিকিমে বেড়াতে গিয়ে পাহাড়ের খাদে গাড়ি পড়ে মৃত্যু হল ৫ বাঙালি পর্যটকের। এঁরা সকলেই হুগলির বাসিন্দা। রবিবার রাতে একটি ছোট গাড়ি করে বাবামন্দির থেকে গ্যাংটক ফেরার সময় সাতমাইল এলাকায় তাঁদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এরপর ৪০০ মিটার নীচে খাদে পড়ে যায় গাড়িটি। গাড়িতে মোট দুই পরিবারের ৭ জন পর্যটক ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন গাড়ির চালক ও স্থানীয় একজন। খাদে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৪ জনের। পরে একজনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে। জখম হয়েছে এক শিশু, এক মহিলা–‌সহ আরও ৪ জন। তাঁদের মধ্যে একজন স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যজন গাড়ির চালক। 
জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে কলকাতার এক তৃণমূল নেতার পরিবারের সদস্যরাও আছেন। সিকিম পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতরা হলেন সন্দীপ কর (‌৪৪), সোমা কর (‌৩১), কাকলি বসু (‌৩১)‌, স্নেহাশিস বসু (‌৪১) ও শুভজিৎ বসু (‌২৬)।‌ ‌‌আহত ২ পর্যটকের নাম মহুয়া পাত্র (‌২১), সন্দীপ ও সোমার শিশুসন্তান শৌর্য কর (‌৫)‌। গাড়ির চালকের নাম সুরেশ তামাং। তিনিও মারাত্মক জখম হয়েছেন। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব এই দুর্ঘটনার পর বিস্তারিত খোঁজ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‌জখম পর্যটকদের সমস্ত রকম সহযোগিতা করা হবে।’‌
হুগলির হরিপাল থানার বন্দিপুর এলাকার বাসিন্দা এই পর্যটকেরা ক’‌দিন আগে সিকিমে বেড়াতে যান। রবিবার তাঁরা ছাঙ্গু হয়ে বাবামন্দির ঘুরে ফিরছিলেন। একটি ম্যাক্স গাড়ি ছিল তাঁদের সঙ্গে। গ্যাংটক ফিরতে ফিরতে রাস্তাতেই সন্ধে হয়ে যায়। আবহাওয়াও ভাল ছিল না। প্রচণ্ড কুয়াশা ও বৃষ্টিও হচ্ছিল। মনে করা হচ্ছে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে পাহাড়ি পথে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সাতমাইলের কাছে রাস্তায় বাঁক নিতেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। কোনও কিছু বোঝার আগেই প্রায় ৪০০ মিটার নীচে খাদে গিয়ে আটকে যায়। দুমড়ে–মুচড়ে যায় গাড়িটি। স্থানীয়রাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। চলে আসে সিকিম পুলিশও। উদ্ধারকারী এসডিআরএফের সদস্যরাও চলে আসেন। ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আহতদের নিয়ে যাওয়া হয় সিকিম মনিপাল হাসপাতালে। সেখানে গেলে একজনের মৃত্যু হয়। 
দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িরও উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন জে এন রোড ট্যাক্সি ড্রাইভার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। সোমবারও আবহাওয়া অনুকূলে নেই। কুয়াশা ও বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজে ব্যাঘাত ঘটছে। মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে সিকিম মনিপাল হাসপাতালে। মৃতদের পরিবারের সদস্যরা সিকিম পৌঁছেছেন। মৃতদেহ ঘরে ফেরানোর জন্য চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই গভীর শোক জ্ঞাপন করেছেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘‌আমরা শোকাহত। মৃতদেহ ফেরানোর জন্য সিকিম পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।’‌ পর্যটকদের উদ্ধারকাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সদস্যরাও। সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘‌খবর পাওয়া মাত্রই আমরা প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগ শুরু করেছি। সংগঠনের তরফে প্রয়োজনমতো সাহায্য করা হবে।’‌
এদিকে, খবর পেয়ে এদিন বসুবাড়িতে যান হরিপালের বিধায়ক বেচারাম মান্না। মৃত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের  সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। একইসঙ্গে দিল্লিতে রাজ্য সরকারের রেসিডেন্সিয়াল কমিশনারের অফিসে যোগাযোগ করে মৃতদেহ যাতে দ্রুত নিয়ে আসা যায় তাঁর ব্যবস্থা করেছেন। মৃতদের আত্মীয় সন্দীপ সরকার জানিয়েছেন, পরিবারের তরফে মৃতদেহ ফিরিয়ে আনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এদিন সকালে ইতিমধ্যেই পরিবারের দু’‌জন বিমানে সিকিম রওনা হয়েছেন।

শুভজিৎ বসু

জনপ্রিয়

Back To Top