অলক সরকার, চোপড়া, ৩ জুন- দু’‌দিন ফুরোলেই ইদ। গোটা গ্রামে যেখানে খুশির মহল থাকার কথা ছিল, সেখানে শোকের ছবি। বাড়িতে বাড়িতে কান্নার রোল। কোথাও আর ইদের আনন্দ খুঁজে পাওয়া গেল না চোপড়া থানার সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ধর্মগছ গোয়াবাড়ি গ্রামে। রবিবার নিঁখোজ হওয়া তিন শিশুর মধ্যে অবশেষে তিনজনকেই খুঁজে পাওয়া গেল। একজনের দেহ রবিবারই উদ্ধার হয়। ডুবুরি নামিয়ে এদিন বাকি দুজনেরও খোঁজ পাওয়া গেল। 
উল্লেখ্য, চোপড়ার তিনমাইল লাগোয়া ওই গ্রামের ৩ শিশু সাইকেল নিয়ে স্নান করার জন্য ডোক নদীতে গিয়েছিল। রবিবার দুপুরে। নদীতে নামার পর তিনজনই নিখোঁজ হয়ে যায়। এদের নাম সাবির আলম (‌৯)‌ নৌসাদ (‌৮) ও আমিরুল (‌৯)। এর মধ্যে রবিবারেই সাবির আলমকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। এদিন বাকি দুজনের দেহ খোঁজার জন্য পুলিশ ডুবুরি নামায় নদীতে। সকাল থেকে দীর্ঘ সময় নদীতে খোঁজ চালানোর হয়। অনেক তল্লাশি চালানোর পরেও রবিবার মৃত শিশুদের হদিশ পাওয়া যায়নি। এলাকাজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছিল। অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, নিখোঁজ শিশুদের আর হয়ত জীবিত অবস্থায় পাওয়া যাবে না। কেউই সাঁতার জানত না। হয়ত নদীর জলে তলিয়ে গেছে। সোমবার নৌসাদের দেহ খুঁজে পাওয়া গেল প্রথমে। পরে আমিরুলের দেহও উদ্ধার হয়। নৌসাদের দেহ খুঁজে পাওয়ার পর এদিন ফের কান্নার রোল পড়ে। এদের প্রত্যেকেই দিনমজুর পরিবারের। নৌসাদরা তিন ভাই। সেই সবচেয়ে বড়। চোপড়া থানার আই সি বিনোদ গজমের জানান, ‘‌আমরা সবরকম ভাবে দেহ খোঁজার চেষ্টা করেছি।’‌ এই কাজে স্থানীয় বাসিন্দারাও যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন। দমকল কর্মীরাও তৎপর ছিলেন। প্রশাসনের তরফে গ্রামবাসীকে জানানো হয়েছে, যাতে শিশুদের বিষয়ে তারা সজাগ থাকেন। ‌‌

মৃত‌ নৌসাদ। ছবি:সংগৃহীত

জনপ্রিয়

Back To Top