সঞ্জয় বিশ্বাস, অলক সরকার, দার্জিলিং: এই মুহূর্তে দার্জিলিঙের যা আবহাওয়া, তা দেখলে বলাই যায়, পাহাড় উজ্জ্বল, হাসিমুখ সবার। দিনের বেলা রোজ পাগল–করা আবহাওয়ার সাক্ষী থাকছেন পর্যটকেরা। সকালে কাঞ্চনজঙ্ঘার স্নিগ্ধ রূপ দেখে শুরু হচ্ছে দিন। লাল আভায় ঢাকতে থাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য মেখে ঘুমোতে যাচ্ছেন সবাই। পাহাড়ের যে কোনও প্রান্ত থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা জ্বলজ্বল করছে। ওই রূপ দেখলে চোখ বন্ধ করতে মন চাইবে না। সঙ্গে ঠান্ডাও বেশ জমিয়ে পড়তে শুরু করেছে। রাত হলেই দার্জিলিং পাহাড় জমে প্রায় বরফ। তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে ২ থেকে ১ ডিগ্রির কাছাকাছি। ভোরবেলা বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকা শিশির জমে সাদা বরফ হয়ে যাচ্ছে। সূর্যের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে আবার জল হয়ে উবে শিশিরভেজা বরফ। ঝলমলে আবহাওয়া পেয়ে পর্যটকদের উন্মাদনা চোখে দেখার মতো। বাতাসিয়া লুপ, পিস প্যাগোডা, ঘুম মনাস্ট্রি, টাইগার হিলের মতো দার্জিলিঙের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের ভিড় ভালই। পরিষ্কার নীল আকাশ পেয়ে বাতাসিয়া লুপ থেকে দূরবিনে গোটা পাহাড় দেখে নিচ্ছেন পর্যটকেরা। উপার্জন বাড়ায় দূরবিন মালিকদেরও মুখে হাসি। 
এদিন লরেটো কনভেন্ট স্কুলে শীতের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিঙের পর্যটন উৎসব শেষ হয়ে যাওয়ায় ম্যালে এখন ফের পর্যটকদের আধিপত্য। এদিন থেকে মিরিকে তিস্তা–রঙ্গিত উৎসব শুরু হয়ে গেল। উৎসবের উদ্বোধন করেছেন মিরিক পুরসভার চেয়ারম্যান লালবাহাদুর রাই। ছিলেন মিরিকের মহকুমা শাসক অশ্বিনীকুমার রায়। পর্যটন উৎসব ঘিরে ঘোড়দৌড়, বোটিং, শোভাযাত্রা–সহ নানান বর্ণময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিন মিরিকে পর্যটকের ভিড় ছিল ভালই। রবিবার সমাপ্তি অনুষ্ঠান। পর্যটকেরা এমন রঙিন অনুষ্ঠান নিয়ে খুব খুশি। এদিকে, পাহাড়ে শৈত্যপ্রবাহ বাড়ায় তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তরাই, ডুয়ার্স–সহ উত্তরবঙ্গের সমতলেও। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও তাপমাত্রা নামছে অনেকটা।‌

বাতাসিয়া লুপে। ছবি:‌ অলক সরকার‌

জনপ্রিয়

Back To Top