আজকালের প্রতিবেদন,দার্জিলিং ও কলকাতা: এই শীতে দার্জিলিঙের চকবাজারে তাপমাত্রার ডিসপ্লে বোর্ড দেখলে চমকে উঠতে হবে। সেখানে জ্বলজ্বল করছে ৮৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস!‌ আর ম্যালের ডিসপ্লে বোর্ড ফাঁকা। দার্জিলিঙের তাপমাত্রা কত?‌ জানতে পারছেন না আবহাওয়া দপ্তর থেকে শুরু করে পর্যটকেরা। গত ৬–‌৭ মাস হল জানা যাচ্ছে না সেখানকার আবহাওয়ার কোনও খবরই। বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে মোর্চার আন্দোলন শুরু হতেই ঝাঁপ পড়েছে সেখানকার আবহাওয়া দপ্তরের অফিসে। যে অস্থায়ী কর্মী কাজ করতেন, তিনি আর আসছেন না। ফলে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের রোজকার তাপমাত্রার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে দার্জিলিং। 
সুবাস ঘিসিংয়ের আমলেও পাহাড় থেকে জানা যেত রোজকার আবহাওয়ার খবরাখবর। পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকার তাপমাত্রার তথ্য জানার পাশাপাশি আশপাশের এলাকার আবহাওয়ার খোঁজও মিলত। দার্জিলিং রাজভবন চত্বরে একটি ছোট অফিস থেকে সেই তথ্য যেত জেলাশাসকের কাছে। পরে টেলিগ্রাফের মাধ্যমে যেত কলকাতায়। শুধু তাই নয়, পর্যটকদের সুবিধার জন্য দার্জিলিঙের চৌরাস্তা অর্থাৎ ম্যালে ছিল একটি ডিসপ্লে বোর্ড। একইরকম ডিসপ্লে বোর্ড রয়েছে চকবাজারেও। সেখানে রোজ পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত তা ডিসপ্লে হত। এতে পর্যটকদের বেশ সুবিধা হত। কিন্তু গুরুংদের আন্দোলনের পর থেকে সেই আবহাওয়ার দপ্তরের আর কোনও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনিতেই রাজভবন চত্বরে সাধারণের যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা আছে। সেখান থেকে শুধুমাত্র আবহাওয়ার খবর পাঠানো হত। ম্যাল এবং চকবাজারে এখনও ডিসপ্লে বোর্ড আছে, কিন্তু সেখানে কিছুই ডিসপ্লে হচ্ছে না। পাহাড়ের সাধারণ মানুষ–সহ পর্যটকদের নির্ভর করতে হচ্ছে মোবাইল আর ইন্টারনেটের ওপর। পর্যটন ব্যবসায়ী বা অনেক দপ্তরের আধিকারিকেরা সিকিম আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছেন। দার্জিলিঙের টাইগার হিল প্যাভিলিয়নে আবহাওয়া জানার নিজস্ব একটি ব্যবস্থা করা আছে। সেই রিপোর্টেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে পাহাড়বাসীকে। পাহাড়ের বিভিন্ন পর্যটন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের মানুষ প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন আবহাওয়ার রিপোর্ট জানানোর ব্যবস্থা করতে। আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা চালু হয়নি।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দার্জিলিঙে আংশিক সময়ের এক কর্মী ছিলেন। তিনিই রাজভবনের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ করতেন। কিন্তু গুরুংদের আন্দোলন আর কর্মবিরতির ঘোষণার পর থেকে সেই কর্মী সেখানে যাচ্ছেন না। ফলে রোজকার আবহাওয়ার তথ্যও পেতে অসুবিধা হচ্ছে। বর্ষার সময় বিভিন্ন মাধ্যমে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু শীতের মরশুমে বেশ অসুবিধা হচ্ছে। তারা জানিয়েছে, নতুন একজন আংশিক সময়ের লোক খোঁজা হচ্ছে। পাওয়া গেলে পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র নতুন করে কাজ করবে। তার আগে দেখে নিতে হবে দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহারে থাকা পরিমাপক যন্ত্রগুলি ঠিক অবস্থায় আছে কি না।‌‌‌
ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে শীতের তীব্রতা দার্জিলিঙে একটু বেশিই থাকে। কখনও কখনও আবার মেঘ–বৃষ্টির কারণে পারদ আরও নিম্নমুখী হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বুঝে পর্যটকেরা গরম পোশাক নিয়ে পাহাড়ে যান। এবার কিন্তু সেরকম কিছুই হতে পারছে না। অন্য বছরগুলিতে এই সময় কেমন থাকে তার তথ্য থেকে আগামী কয়েকদিন কেমন যেতে পারে, তার একটা সম্ভাব্য তাপমাত্রা–চিত্র দেওয়া হচ্ছে। বাগডোগরা বিমানবন্দরে আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকে। সেখান থেকে জেনে নিয়ে দার্জিলিঙের আকাশে আগামী কয়েকদিন রোদ উঠবে না কি মেঘ, বৃষ্টির পরিস্থিতি থাকবে তা জানানো হচ্ছে। এখন যেমন জানানো হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে আগামী কয়েকদিন দার্জিলিঙের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২–‌৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। আকাশ থাকবে আংশিক মেঘলা। কিন্তু বুধবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত ছিল?‌ বৃষ্টি হয়েছে কি?‌ হলে কতটা?‌ তা জানার উপায় নেই।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top