সঞ্জয় বিশ্বাস,দার্জিলিং: লোকসভায় জয় পেতেই দার্জিলিং পুরসভায় অনাস্থার নোটিস দিল গুরুংপন্থী মোর্চা। ‌১৭ জন কাউন্সিলরের স্বাক্ষর সংবলিত অনাস্থাপত্র বুধবার চেয়ারম্যান প্রতিভা রাইকে দেওয়া হয়। নোটিসে বলা হয়েছে, অবিলম্বে বিশেষ বৈঠক ডেকে তিনি নিজের আস্থা প্রমাণ করে দেখান। এই অনাস্থাকে ঘিরে দার্জিলিং শহরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনাস্থা নোটিস দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় গুরুংপন্থী মোর্চার মুখপাত্র বি পি বাজগিংকে আটক করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে আইন অমান্যের অভিযোগ ছিল। এরপর পুরসভার সামনেই বসে পড়েন গুরুংপন্থীরা। ফলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
 যদিও জিটিএ–‌র প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা বিনয়পন্থী মোর্চার সহ–‌সভাপতি অনীত থাপা জানান, ‘‌ওরা দিবাস্বপ্ন দেখছে। জাল স্বাক্ষর দিয়ে অনাস্থাপত্র জমা করা হয়েছে। কিছুই করতে পারবে না।’‌ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সাগর শর্মা জানান, ‘‌জোর করে ভয় দেখিয়ে অনেককে কাছে টানার চেষ্টা করছে। কিন্তু সে সব করে কিছুই করতে পারবে না।’‌ এদিকে, রাতেই ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লাকপা শেরপা দার্জিলিং থানায় অভিযোগ করে জানান, ‘‌অনাস্থাপত্রে তাঁর জাল সই ব্যবহার করা হয়েছে।’‌ 
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের মে মাসে দার্জিলিং পুরসভার নির্বাচনে ৩২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩১টি আসন পায় মোর্চা, ১টি পায় তৃণমূল। চেয়ারম্যান করা হয় ডি কে প্রধানকে। ভাইস চেয়ারম্যান হন রাম জন গোলে। জুন মাস থেকে পাহাড়ে অশান্তি শুরু হলে গুরুং পাহাড়ছাড়া হন। ডিসেম্বর নাগাদ ডি কে প্রধান গ্রেপ্তার হন। রাম জন গোলে ইস্তফা দেন। বাকি সবাই বিনয় শিবিরে চলে আসেন। ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি অনাস্থা এনে বিনয়পন্থীরা প্রতিভা রাইকে চেয়ারম্যান ও সাগর শর্মাকে ভাইস চেয়ারম্যান করেন। সদ্য শেষ হওয়া লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি দার্জিলিং আসনে জিততেই গুরুপন্থীরা ফের মাথাচাড়া দেওয়া শুরু করে। পাহাড়ে অশান্তির আবহ তৈরি হয়। এদিন তাঁরাই ১৭ জনের স্বাক্ষর সংবলিত অনাস্থাপত্র জমা করেন। অন্যদিকে, এরপরেই গুরুংপন্থী মোর্চার মুখপাত্র বি পি বাজগিংকে আটক করায় আরও উত্তেজনা ছড়ায়। 

জনপ্রিয়

Back To Top