অলক সরকার, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি শহরের একদম পাশেই ছিল চাঁদমণি চা–‌‌বাগান, যা এখন ‘‌উত্তরায়ণ’‌ উপনগরী নামে পরিচিত। একসময় এখানে চিতাবাঘের হামলা উপেক্ষা করেই চা–‌‌পাতা তুলতেন চা–‌‌শ্রমিকের দল। এখন আকাশছোঁয়া দালানবাড়িতে নিরাপদে বসবাস করেন শহরের অভিজাত পরিবারের লোকজন। কিন্তু নোভেল করোনাভাইরাস সেই চিতাবাঘের হামলার ভয় ফিরিয়ে এনেছে। নিরাপত্তায় আঁটোসাঁটো থাকলেও ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত উপনগরীর বাসিন্দা। তাই এখন ছুটি উপনগরীর সমস্ত পরিচারিকা ও গাড়ির চালকদের। যে আবাসিকরা নিজেরা গাড়ি চালাতে পারেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সরকারের লকডাউনকে কার্যকরী করতে কঠোর অনুশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘‌চাঁদমণি উত্তরায়ণ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’‌। এতটাই কঠোর নিয়মবিধি চালু করা হয়েছে, যে সেখানে টাকা–‌‌পয়সার লেনদেনও প্রায় বন্ধ।
উত্তরায়ণের আবাসিকদের থেকে জানা যাচ্ছে, গোটা উপনগরীতে খবরের কাগজ নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রোজকার সবজি–‌‌দুধের জন্য কিছু ফেরিওয়ালাকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেই সময়ের মধ্যে তাঁরা এলে নির্দিষ্ট দূরত্বে রেখে কেনাকাটা করা হচ্ছে। এবং ওই সবজি একদিন জলে ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে পরের দিন রান্নার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে সবজি বিক্রেতাদের টাকা দেওয়ার পর কোনও টাকা ফেরত নেওয়া হচ্ছে না। যা দাম, সেটাই দেওয়া হচ্ছে, কিংবা সামান্য বেশি চলে গেলে তা ছেড়ে দিচ্ছেন আবাসিকরা। কোনও ব্যক্তি উপনগরী থেকে বাইরে গাড়ি নিয়ে যেতে চাইলেই যেতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন দেখালে তবেই অনুমতি মিলছে। সঙ্গরোধ বলতে যা বোঝায় সেটা যেন অক্ষরে অক্ষরে পালিত হচ্ছে শিলিগুড়ি লাগোয়া উত্তরায়ণ উপনগরীতে।
‘‌চাঁদমণি উত্তরায়ণ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’‌র অন্যতম কর্মকর্তা তথা চা–‌‌বাগান মালিক প্রবীর শীল জানান, ‘‌আমাদের উপনগরীতে একসঙ্গে মর্নিংওয়াক পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। যে যার আবাসনের নীচে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করেই ঘরে ঢুকে পড়ছেন। আসলে এই ভাইরাসের ক্ষেত্রে লকডাউন ঠিকভাবে না মানলে আখেরে ক্ষতি আমাদেরই। সকলেরই এটা বোঝা দরকার।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top