গিরিশ মজুমদার, শিলিগুড়ি: করোনা মোকাবিলায় শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় দু‌টি কোভিড–১৯ ক্লিনিক খোলার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের। এছাড়াও দার্জিলিং জেলার সমতলে আটটি কেয়ারেন্টিন সেন্টার খোলা হবে। পাহাড় মিলিয়ে এই সংখ্যাটা ১৮। দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলাকে করোনা মোকাবিলায় সর্বাত্মকভাবে তৈরি রাখতে মন্ত্রী গৌতম দেব বুধবার পরপর তিনটি বৈঠক করেন। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মন্ত্রী। এই কঠিন পরিস্থিতিতে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আবেদন করেন মন্ত্রী। 
শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল ও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল করোনা মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত এদিন তা খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। এদিনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, কোয়ারেন্টিন সেন্টার ও কোভিড ক্লিনিক খোলা। এই লক্ষ্যে দু‌টি বেসরকারি নার্সিংহোমকে কাজে লাগানো হচ্ছে। একটি মাটিগাড়া সংলগ্ন হিমাচল বিহারে, অন্যটি জলপাইগুড়ি জেলার ফুলবাড়িতে। যদিও দু‌টি জায়গাতেই কোভিড ক্লিনিক খোলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কর্মীদের একাংশ। 
এদিন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের প্রিন্সিপাল, মেডিক্যাল সুপার, ডাক্তার, নার্সিং স্টাফ, জিডিএ ও সাফাইকর্মীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। শিলিগুড়ি মহকুমাশাসক সাফাইয়ের জন্য মেডিক্যালে একটি টিম পাঠান। এসজেডিএ–‌র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক আরও একটি সাফাইয়ের টিম গড়ে দিয়েছেন। শিলিগুড়ি পুরনিগম থেকে ইতিমধ্যেই ১০ জনের একটি সাফাইকর্মীর টিম পাঠানো হয়েছে মেডিক্যালে। 
শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালেও এদিন বৈঠক হয়েছে। সেখানে ৩ জন রোগী আইসোলেশন ওয়ার্ডে আছেন এবং ১৩ জনকে ফিভার ক্লিনিকে রাখা হয়েছে। 
এদিন মন্ত্রী শিলিগুড়িতে আইএমএ–‌র প্রতিনিধিদের সঙ্গেও পিডব্লুডি ইনস্পেকশন বাংলোয় বৈঠক করেন। পরিস্থিতি সামলাতে তঁাদের সহযোগিতা চান তিনি। গৌতম দেব বলেন, ‘‌মেডিক্যালে করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় পিপিই কিট চলে এসেছে। অন্যান্য সরঞ্জামও এসেছে। আরও যা যা লাগবে তা রাজ্য সরকার পাঠাবে। আমাদের এই লড়াইয়ে সবাইকেই একসঙ্গে ঝাঁপাতে হবে। পরবর্তীতে যাতে আমাদের পরিস্থিতি সামাল দিতে সুবিধা হয় সেজন্য কোয়ারেন্টিন সেন্টার, কোভিড ক্লিনিক করার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top