পঙ্কজ সরকার‌, মালদা, ২৫ মার্চ- ‘‌বাবা, তোমরা ঘরের বাইরে যাবে না। হ্যান্ড স্যানিটাইজার সবসময় ব্যবহার করবে। আর আমার জন্য চিন্তা করবে না। আমিও গৃহবন্দি, এখানকার সরকারি নির্দেশিকা মেনেই কাজ করছি।’‌ সুদূর কাতার থেকে এভাবেই পরিবারকে আশ্বস্ত করছেন মেয়ে আম্বিয়া নাসরিন। কাতারেই গৃহবন্দি আম্বিয়া। ‌ভারতের মতোই কাতারেও লকডাউন চলছে। মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সেখানে শুরু হয়েছে লকডাউন। তবে মেয়েকে নিয়ে চিন্তিত বাবা–মা। যদিও বাবা আবদুল শেখ আশ্বাস দিয়েছেন মেয়েকে, ‘সবাই ভাল আছি।’‌ 
মেয়েকে নিয়ে তাঁর পরিবার যেমন দুশ্চিন্তায়, ঠিক তেমনই পরিবারকে নিয়েও উদ্বিগ্ন কাতারে গৃহবন্দি থাকা মেয়ে। কাতারে ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রে চাকরিরত তিনি। বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল কাতারেই রয়েছেন। সেখানে বহু ভারতীয়ই কর্মরত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন করোনার থাবায় বিপর্যস্ত, তখন কাতারও করোনার থাবা থেকে বাদ পড়েনি। মেয়ে আম্বিয়া গৃহবন্দি হয়ে ঘরে বসেই অফিসের কাজকর্ম সারছেন। মোবাইল ও ভিডিও কলিংয়ের মাধ্যমে মেয়ের সঙ্গে কথা বলছেন পরিবারের বাবা আবদুল শেখ, মা তাসলেমা খাতুন ও ছেলে তানভির মাহমুদ। বাড়ি কালিয়াচক থানার মাস্টারপাড়া গ্রামে। আবদুল শেখ জানান, ‘‌আমাদের গৃহবন্দি থাকতে বলছে মেয়ে। আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার কথা বলছে। আমরাও তাই মেনে চলছি।’ ও প্রান্ত থেকে মেয়ে আম্বিয়া বলেন, ‘‌গোটা বিশ্ব একপ্রকার করোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে লকডাউনে রয়েছি। পরিবারকেও আগে থেকেই বলেছি সতর্ক থাকতে।’‌ 
এদিকে, ১০ মার্চ কাতার যাওয়ার কথা ছিল আম্বিয়ার ভাই তানভির মাহমুদের। সেইমতো ৯ মার্চ কলকাতায় পৌঁছে জানতে পারেন কাতারে যাওয়া যাবে না। কাতার সরকার করোনার জন্য কাতারে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে মেয়ে ভাল আছে জেনে আশ্বস্ত পরিবার। সকলেই আশা করছেন, দ্রুত এই পরিস্থিতি কেটে যাবে।

বাড়িতে টিভিতে নজর পরিবারের সদস্যদের‌। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top